আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গিরিডি জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরো সদস্য ও শীর্ষ নেতা মিসির বেসরাকে।

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই মাওবাদী নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু এবং সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানবাদ-গিরিডি সীমান্ত এলাকায় কোবরা, সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে দুই গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক, পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। গিরিডি জেলার পিরতাঁড় থানার মাদান্ডিহ গ্রামের বাসিন্দা মিসির বেসরা ভাস্কর, সুনির্মল ও সাগর নামেও পরিচিত ছিল।

নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিসিরের।

নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সারান্ডা, পোরাহাট ও কোলহানের জঙ্গল এলাকায় সংগঠনের ঘাঁটি শক্তিশালী করা, সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মাওবাদী ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে।

অন্যদিকে, ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু, বিভীষণ বা কুম্বা মুর্মু ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা। সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল মোচ্ছু। তার গ্রেপ্তারির জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, মিসির বেসরার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সারান্ডা-পোডাহাট অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ, তোলাবাজি, ক্যাডার পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোচ্ছুর।

আর এক ধৃত গৌরব ওরফে সৌরভও সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকেও সংগঠনের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মিসির বেসরার গ্রেপ্তারি রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। পুলিশের দাবি, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি বর্তমানে পলাতক।