আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের পর আট মাস কাটল না। শ্বশুরবাড়িতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকার। দিনের পর দিন স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কটুক্তি, শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার পরেই শিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধার হল শ্বশুরবাড়ি থেকে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দেরাদুনের সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা সৃষ্টি মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার তাঁর স্বামী সৌরভ ও ননদ চারুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সৃষ্টির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিকভাবে তাঁকে চরম নির্যাতন করা হত। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, আট মাস আগেই সৃষ্টি ও সৌরভের বিয়ে হয়। ৩০ বছর বয়সি সৃষ্টি শ্রীনগর গাড়োয়ালের এক সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ জুলাই দেরাদুনের দইওয়ালা এলাকা থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকেই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

 

সৃষ্টির মা জানিয়েছেন, ঘটনার ঠিক আগেই তাঁকে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিল মেয়ে। কাঁদতে কাঁদতেই সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা জানান, বিয়ের পর থেকেই মানসিক হেনস্থার শিকার তিনি। পণের দাবিতে বহুবার মারধর করা হয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মতোই স্বামীও দিনের পর দিন নির্যাতন করতেন তাঁকে। 

 

সৃষ্টির ভাই পুলিশকে জানিয়েছেন, ২৯ জুলাই সকাল ৭টা নাগাদ যে ভিডিওটি দিদি পাঠান, তাতে এও জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে 'অপয়া' বলেন। ভিডিওটি দেখেই সকলকে ফোন করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন মা। কিন্তু সৃষ্টির শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

 

এর ঠিক এক ঘণ্টা পরেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে আসার কথা জানান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সৃষ্টির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিবারের অভিযোগ, সেদিনই বাড়ি ফেরার কথা ছিল সৃষ্টি। তার ঠিক আগে তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনাচ্ছে। এরপরেও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

 

পরিবারের তরফে আরও জানা গিয়েছে, সৃষ্টির শ্বশুরের মৃত্যুর পরেই তাঁকে 'অপয়া' বলে ডাকতেন স্বামী, শাশুড়ি, ননদ। তিনিই পরিবারের জন্য অশুভ বলেও কটুক্তি করতেন। এই ঘটনার পরেই গোটা উত্তরাখণ্ড জুড়েই তুমুল শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি সৃষ্টি মৃত্যুকাণ্ডে সিবি-সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।