আজকাল ওয়েবডেস্ক: আপাতত হাসপাতালে তিনি, সেখানেও নাকি অনশনে সোনাম ওয়াংচুক। এমনই দাবি সমাজকর্মীর স্ত্রীর। এর মাঝেই সোমবার সিজেপি-র ডাকে 'সংসদ চলো' অভিযান। সতর্ক দিল্লি পুলিশ। উত্তাপ বাড়ছে রাজধানীর। এসবের মধ্যেই সোনামের ঘোষণা, তিনটি শর্তে অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন তিনি।
দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে থেকে পাঠান এক হাতে লেখা চিঠিতে ওয়াংচুক তাঁর শর্তগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর প্রথম শর্ত হল, শিক্ষাব্যবস্থায় "ব্যর্থতা" (বিশেষ করে সাম্প্রতিক 'নিট' পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস)-র দায় সরকারকে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্তটি হল, রাজনৈতিক নেতাদের নিশ্চিত করতে হবে যে- প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে। তৃতীয় দাবিতে ওয়াংচুক বলেছেন, যদি শারীরিক অবস্থা বা অন্যান্য কারণে তিনি আজ সংসদের অভিমুখে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিতে না পারেন, তবে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং অন্য দু'টি শর্ত পূরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
চিঠির শেষে ওয়াংচুক উল্লেখ করেন যে, এই "বেআইনি আটকাবস্থায়" তাঁর চলাফেরা, বাকস্বাধীনতা এবং সব ধরনের যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদির দাবি জানিয়ে আসছেন। লাদাখ ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি অতীতে বহুবার প্রতিবাদ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। 'নিট' পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেন এবং অনশন শুরু করেন।
তবে ১৮ জুলাই সকালে (অর্থাৎ তাঁর অনশনের ২১তম দিনে) পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থাকে জরুরি বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। দিল্লি হাইকোর্ট গত শুক্রবার ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তার ঠিক পরের দিনই দিল্লি পুলিশ এই পদক্ষেপ করে।
সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতালে ভর্তি ও দিল্লি হাইকোর্ট
এই পরিবেশকর্মীর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো রবিবার দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে ওয়াংচুককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিলেন। তবে আদালত তাঁর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে। আদালত পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ওয়াংচুক নিজে থেকে হাসপাতালে ভর্তি হননি, তাই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের "পুরোপুরি আইনি অধিকার" ছিল।
বিচারপতি মিনি পুষ্করণা বলেন, "যেহেতু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাঁর সম্মতিতেই তাঁকে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়েছেন, তাই বলা যায় না যে তাঁর ওপর জোর খাটানো হচ্ছে বা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। এই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারির প্রয়োজন নেই।"















