আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিন্তা বাড়ছিল তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা বারবার আর্জি জানাচ্ছিলেন, স্বাস্থ্যের কথা ভেবে, এবার প্রত্যাহার করে নিন অনশন। অবশেষে, ২৬দিন অনশনের পর, ভাঙলেন তা। বৃহস্পতিবার রাতে, জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বেশকয়েকটি ছবি পোস্ট করে, সোনম ২৬দিন পর অনশন ভাঙার কথা জানিয়েছেন।
তিনি অনশন ভাঙার পর ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওয়াংচুকের উদ্দেশে লিখেছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে এবং দ্রুত তাঁর পুরোনো স্বাস্থ্য, ওজন ফিরে পেতে। সোনমের সুস্থতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ঘণ্টাখানেক আগেই, বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় বড় বার্তা দেন। তিনি বলেন, আগামিকাল-ই ক্যাবিনেট বৈঠকে নিট দুর্নীতিকাণ্ড নিয়ে তিনি পুনরায় আলোচনা করবেন এবং তারপরেই অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনওভাবেই তাদের রেয়াত করা হবে না বলেই জানান তিনি। তার ঘণ্টাখানেক পরেই সামনে এল সমাজকর্মীর অনশন প্রত্যাহারের তথ্য।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন দাবি তুলেছেন রাহুল গান্ধী। মোদির মধ্যরাতের ভিডিওবার্তাকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা। সঙ্গেই, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর আঘাতকারীদের শাস্তি এবং ক্ষমার দাবি রাহুল গান্ধীর।
নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস-সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে সূচনা আন্দোলনের। দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। এই দাবিতেই দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভের সুর তোলে ককরোচ জনতা পার্টি। তাতে সামিল হয় পরীক্ষার্থী, পড়ুয়ারা। ওই আন্দোলন সমর্থন করে, জুন মাসের ২৮তারিখ থেকে অনশন শুরু করেন সোনম। যন্তর মন্তরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন তিনি। সোনমের অনশন, নতুন মাত্রা দেয় আন্দোলনকে। একদিকে বাড়তে থাকে প্রতিবাদীদের সংখ্যা। অন্যদিকে সমাজের নানা স্তরের মানুষ, সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানান। রাজনীতি থেকে বিনোদন দুনিয়া, একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বিশিষ্ট সমাজকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যন্তর মন্তরে গিয়েছেন। একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ তাঁকে অনশন তোলার আর্জি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই।
এসবের মাঝেই, আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে। তবে, ১৮ জুলাই সোনম ওয়াংচুককে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে সাফদারজং পরে মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। যদিও যন্তর মন্তরে থাকাকালীনই উদ্বেগ বাড়ছিল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে। তবে হাসপাতালে গিয়েও, নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। অবশেষে, অনশনের ছাব্বিশ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ভাঙলেন পণ। স্ত্রী গীতাঞ্জলি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন সোনম। তাঁর অনশন ভাঙার পর, সিজেপি অর্থাৎ কোকরোচ জনতা পার্টির অবস্থান কী হয়, আন্দোলন কোনদিকে মোড় নেয়, নজর এখন সেদিকেই।
















