আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বর্তমান রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার মতো কারণ দেখিয়ে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সিদ্ধারামাইয়া। রবিবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০২৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এমনকি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনেই প্রার্থী হতে চাননা তিনি। এমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

জানা গিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সিদ্ধারামাইয়া। সেই পদে নিযুক্ত হন ডিকে শিবকুমার। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও দলীয় সমস্যা বা রাজনৈতিক কারণ নেই বলেই জানান সিদ্ধারামাইয়া। বরং বয়স, স্বাস্থ্য এবং রাজনীতির পরিবর্তিত পরিবেশকেই দায়ী করেছেন কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা।

 

সমাজমাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি লেখেন, "আমি ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যোগদান করব না। আমার বয়স এখন ৭৯ বছর। আমাদের সরকারের মেয়াদ এখনও দেড় বছর বাকি অর্থাৎ ততদিনে আমার বয়স হবে ৮১-৮২ বছর। আমার স্বাস্থ্য এখন আর আগের মতো আর শক্তিশালী নয়। তাই আগের মতো উৎসাহ নিয়ে কাজ করাও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।"

 

সক্রিয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন ঠিকই। তবে জনসেবা বা জনকল্যাণ থেকে তিনি দূরে থাকবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ময়দানে উপস্থিত থেকে জনগণের সুখদুঃখে সবসময় তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি নিরন্তর কাজ করে যাবেন।

 

নিজের নির্বাচনী এলাকা বরুণার মানুষের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন। বিগত নির্বাচনী প্রচারের সময় স্থানীয়রাই টাকা তুলে তাঁকে ভোটে জয়ী করেন। সে কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এলাকার মানুষ তাঁকে ফের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অবক্ষয় দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আক্ষেপ, "আজ পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এমন এক সময় এখন দাঁড়িয়ে যেখানে নির্বাচনে লড়তে হলে নিজেদেরই জনগণকে টাকা দিতে হয়। বর্তমান রাজনীতি পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত। রাজনৈতিক সততা বলে আরও কিছু অবশিষ্ট নেই। এই প্রেক্ষিতেই আমি ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে তালুক বোর্ডের সদস্য হিসেবে সিদ্ধারামাইয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০২৮ সালে রাজনীতিতে তাঁর ৫০ বছর পূর্ণ হবে। জয়-পরাজয়ের দীর্ঘ পথচলায় নিজের নীতি ও বিবেকের কাছে তিনি বরাবর সৎ ছিলেন বলে দাবি এই জননেতার।