আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুম্বাইয়ের এসপ্ল্যানেড আদালতের ভেতরে এক প্রবীণ মহিলা আইনজীবীর হৃদরোগে আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে। মৃতের স্বামী অভিযোগ করেছেন, সময়মতো চিকিৎসা সাহায্য না পাওয়ায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার সময় বহু উপস্থিত ব্যক্তি তাঁকে সাহায্য না করে মোবাইল ফোনে ভিডিও তুলছিলেন।
প্রয়াত আইনজীবী মালতি পাওয়ার (৫৯) মুম্বাই ফ্যামিলি কোর্ট, বম্বে হাই কোর্ট এবং শহরের অন্যান্য আদালতে দীর্ঘদিন ধরে আইন চর্চা করতেন। বুধবার সকালে এসপ্ল্যানেড কোর্টের বার রুমে বসে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বামী রমেশ পাওয়ারকে ফোন করে জানান, শরীরটা ভালো লাগছে না এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে চান। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত কামা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে স্বামী রমেশ পাওয়ারের অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত কেউই সময়মতো প্রাথমিক চিকিৎসা দেননি বা তাঁকে কাছের জিটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেননি। তাঁর কথায়, “আমার স্ত্রী যদি সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পেতেন, হয়তো আজও বেঁচে থাকতেন। কেউ তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেনি, বরং অনেকে মোবাইলে ভিডিও তুলতে ব্যস্ত ছিল।”
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আদালত প্রাঙ্গণে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে ইতিমধ্যে এসপ্ল্যানেড কোর্টের প্রধান বিচারবন্দের উদ্দেশে এক চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিদিন শত শত আইনজীবী আদালতে আসেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রবীণ। তবু কোনো আদালতেই চিকিৎসক, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষিত মেডিকেল টিম নেই। তাই অবিলম্বে আদালত প্রাঙ্গণে প্রথম চিকিৎসা কেন্দ্র, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা টিম গঠনের প্রয়োজন।
সুনীল পাণ্ডে আরও প্রস্তাব দিয়েছেন যে, প্রতিটি আদালতে অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সিপিআর (CPR) প্রশিক্ষণ, এবং স্বয়ংক্রিয় ডিফিব্রিলেটর (AED) যন্ত্র স্থাপন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করা যায়। ঘটনাটি মুম্বাইয়ের আইনজীবী সমাজে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং আদালতের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
