আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'অনাবিল' ক্ষোভ, অথচ গলায় অদ্ভুত সংযম। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের বিক্ষোভ ধরনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তেজনা ছড়ালো দিল্লিতে। তাঁকে আটক করা এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী। 

সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "আমার সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। চাইলে আমার ওপর পাঁচ গুণ বেশি অত্যাচার করা হতে পারে। কিন্তু আসল বিষয় থেকে যেন নজর না ঘোরে।"

রাহুলের সোজাসাপ্টা সওয়াল- নজর রাখতে হবে দেশের ছাত্রসমাজ, ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা আর একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাতেই। যে চড়া মূল্য ছাত্রছাত্রীদের আজ চোকাতে হচ্ছে, প্রতিবাদটা আসলে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই।

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় তেতে উঠল সংসদ। শাসক জোট এনডিএ ও বিরোধী দলগুলির তীব্র ধাক্কাধাক্কি ও হইহট্টগোলের জেরে থমকে গেল সংসদের কাজকর্ম। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে লোকসভা ও রাজ্যসভা- দুই কক্ষই আগামী ২৩ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দিয়েছেন স্পিকার ও চেয়ারপার্সন।

বুধবারও নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন বিরোধীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সংসদীয় কাজ থামিয়ে 'মুলতবি প্রস্তাব'-এর অধীনেই প্রশ্ন ফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনা করতে হবে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এ দিন অভিনব প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা। সবাই কালো পোশাক পরে সংসদে আসেন। 

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, "দিল্লিতে পড়ুয়াদের ওপর যে পুলিশি অত্যাচার হয়েছে এবং তা সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রীকে যে পদে রেখে দেওয়া হচ্ছে- তার প্রতিবাদেই আজ আমরা কালো জামা পরেছি। ছাত্র আন্দোলনে সরকারের এই মনোভাব মেনে নেওয়া যায় না।"

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ দেখানোর সময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, সেই ঘটনার উত্তাপ এ দিন আছড়ে পড়ে সংসদ চত্বরে।