আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিবিএসই পরীক্ষার ফলাফলে ‘বড়সড় কারচুপি’র অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ রাহুল লিখেছেন, ‘‘সিবিএসই-র ফলাফলে ব্যাপক জালিয়াতি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মায়েরা চরম উদ্বেগে পড়েছেন।’’ মোদিকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আর মিস্টার মোদি? বরাবরের মতোই-কোনও জবাব নেই, কোনও দায় নেই, কোনও লজ্জাও নেই।’’

গোটা ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, সিবিএসই-র মূল্যায়নের দায়িত্ব পাওয়া ‘কোয়েমপ্ট’ নামের সংস্থাটি ২০১৯ সালে তেলঙ্গানাতেও ঠিক একই কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তখন অবশ্য তাদের নাম ছিল ‘গ্লোবারেনা’।

রাহুলের কথায়, ‘‘যেই কোয়েমপ্ট সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো, তারা ২০১৯ সালে তেলেঙ্গানায় গ্লোবারেনা নামে একই কাণ্ড করেছিল। নাম বদলালেও মতলব বদলায়নি। সব ইতিহাস জানা থাকা সত্ত্বেও কেন তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হলো? সাড়ে ১৮ লাখ ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ এমন একটা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হলো, অথচ কেউ টেরও পেল না!’’

এই বিষয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা- 

কার ইশারায় এবং কেন এই চুক্তি কোয়েমপ্ট সংস্থাকে দেওয়া হলো?
 
দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন নিয়ম ও পদ্ধতিকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে?

গ্লোবারেনা নামে এই সংস্থাটি যখন আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিল, তখন চুক্তি করার আগে সিবিএসই কেন তাদের অতীত খতিয়ে দেখল না?

কোয়েমপ্ট সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে মোদি সরকারের সম্পর্ক ঠিক কী?

এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি, আসল দোষীদের খুঁজে বার করতে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।

সবশেষে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘সিবিএসই-র তরুণ বন্ধুরা- তোমাদের পরিশ্রম আর ভবিষ্যৎ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা এই চক্রান্তের শেষ দেখে ছাড়ব এবং এই দুর্নীতিকে সমূলে উপড়ে ফেলব।’’