আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকে সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার-এর। কাবেরী নদীর জলবন্টন নিয়ে তামিলনাড়ুর সঙ্গে বিবাদের জেরেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিল সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও। তামিলনাড়ুকে প্রতিদিন যে ৩,৫০০ কিউসেক করে আগামী ১৫ দিন কাবেরী নদীর জল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে 'কাবেরী ওয়াটার রেগুলেশন কমিটি', তা পরবর্তীতে বজায় রাখে 'কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি'। এই নির্দেশের পরই কর্ণাটকের আইনি ও রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে এই সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কৃষকদের স্বার্থের উপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বলেন, "আমরা সবাই কাবেরী জলবণ্টন বিবাদকে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে বড় হয়েছি। রাজনীতির চেয়ে আমাদের রাজ্যের কৃষক এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি আরও যোগ করেন, "রাজ্যের কল্যাণের জন্যই সমস্ত রাজনৈতিক দল সবসময় একজোট হয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—পানীয় জলের গুরুত্বকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমি জানি আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে সহমত হবেন।"

 

মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের সরকারি বাসভবনে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। এতে দলমত নির্বিশেষে বেশ কিছুজন বর্ষীয়ান নেতাও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ছয় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী—বীরপ্পা মইলি (কংগ্রেস), সিদ্দারামাইয়া (কংগ্রেস), বিএস ইয়েদিউরাপ্পা (বিজেপি), এইচডি কুমারস্বামী (জেডিএস), ডিভি সদানন্দ গৌড়া (বিজেপি) এবং বাসভরাজ বোম্মাই (বিজেপি)-র মতো মানুষ। এছাড়া বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক-সহ অন্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজেপি প্রথমে এই বৈঠক বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। তবে তামিলনাড়ুকে কোনও জল না দেওয়ার নিশ্চয়তাও চেয়েছিল। শেষমেশ, দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তারা সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

কাবেরী ইস্যুতে এই অরাজনৈতিক বৈঠকের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সিডব্লিউআরসি এবং সিডব্লিউএমএ-র বৈঠকের আগে আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাতিল, প্রহ্লাদ জোশী এবং ভি সোমান্নার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাই ও জগদীশ শেট্টারের সঙ্গে দেখা করে কর্ণাটকের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেছিলাম। তাঁরাও কেন্দ্রের কাছে আমাদের রাজ্যের দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁদের এই সমর্থনের জন্য আমি প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই।"

 

অন্যদিকে, কর্ণাটক রাজ্য বিজেপি সভাপতি বিওয়াই বিজয়েন্দ্র দীর্ঘদিনের এই আন্তঃরাজ্য কলহ সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এই নিয়ে রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়কে চিঠিও লিখেছেন।