আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক লহমায় কর্মহীন হয়ে পড়লেন একটি বেসরকারি সংস্থার ৭০০-রও বেশি কর্মী ও ইন্টার্ন। মহারাষ্ট্রের পুণের তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিনজেওয়াড়িতে ঘটেছে। বকেয়া বেতন ও কোনওরকম আগাম বার্তা না দিয়েই আচমকা দপ্তর গুটিয়ে নিয়েছে ‘থিঙ্ক টেক ইন্ডিয়া ওপিসি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই সংস্থাটি। 

এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রতারিত কর্মীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নয়ডার এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সিইও হর্ষল ঠাকরেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত হর্ষল সংস্থার ‘হেড অফ ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ পদেরও দায়িত্বে ছিলেন। সিইও-র পাশাপাশি সংস্থার এক এইচআর ম্যানেজারও এখন পুলিশের আতশকাচের তলায়। 

পুলিশ সূত্রে খবর, বছর পঁচিশের এক ইন্টার্ন তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই খবর প্রকাশ্যে আসে। পরে তাঁর সঙ্গে সুর মেলান আরও জনা তিরিশেক কর্মী। ধৃত সিইও-র বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

বঞ্চিত কর্মীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস কাজ করিয়েও তাঁদের বেতন বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়নি। উল্টে ল্যাপটপ দেওয়ার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। বহু কর্মীরই অন্তত এক থেকে তিন মাসের বেতন বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ।

এই চরম বিপাকে কর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের সংগঠন ‘ফোরাম ফর আইটি এমপ্লয়িজ’। সংগঠনের প্রধান পবনজিৎ মানে জানান, গত বছরই পুণেতে কাজ শুরু করেছিল এই সংস্থা। শুরুতে ফ্রেশারদের ঠিকঠাক মাইনে দিলেও, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া টাকা চাওয়ার নাম করে দিনের পর দিন কেবলই ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ইয়াভতমালে, জলগাঁও এবং নাসিকের মতো বিভিন্ন জেলার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা বহু ছেলেমেয়েকে এই সংস্থায় নিয়োগ করা হয়েছিল। গত ২২ এপ্রিল সকালে কর্মীরা অফিসে এসে দেখেন মূল দরজায় তালা ঝুলছে। বকেয়া ঘরভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ না মেটানোয় বাড়িওয়ালা নিজেই অফিসটি সিল করে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে মহারাষ্ট্রের একাধিক নামী কলেজের ক্যাম্পাসিং তালিকায় এই সংস্থার নাম থাকায় সহজেই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। জানা গিয়েছে, তাঁদের বিশ্বাস ছিল, নামী কলেজ যখন সুযোগ দিচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই সব যাচাই করেই দিয়েছে। নয়ডায় মূল অফিস থাকা এই সংস্থার পুণে শাখার ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখে জালিয়াতির আসল বহর বোঝার চেষ্টা করছে হিনজেওয়াড়ি থানার পুলিশ।