আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে এখন দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা চলছে। আর এই পরীক্ষা ঘিরেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে নানা খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কিছু ভিডিও নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সামান্য দেরি হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না পড়ুয়াদের। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই ব্যথিত৷ 

এর মধ্যেই ওড়িশা থেকে এক খবর পাওয়া গিয়েছে। খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু মেয়ের দশম শ্রেণির পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে কাটে, তার জন্য সেই 'কয়েদি' বাবাকেই সাময়িক মুক্তি দিল ওড়িশা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, শিক্ষা প্রত্যেকটি শিশুর মৌলিক অধিকার। আর কিছু বিশেষ সময়ে সন্তানের জন্য বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুমা আছেন। তাঁদের পক্ষে নাতনিকে প্রতিদিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল। মেয়ের নিরাপত্তা আর পরীক্ষার কথা ভেবেই ব্যক্তি জামিনের আবেদন করেছিলেন। ওড়িশা হাই কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে জানায়, আইন কঠোর হলেও এই 'বিশেষ' দিকটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

২০১০ সালের একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত শ্রীনিবাস পাত্র ২০২১ সাল থেকে জেল খাটছেন। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় বাবার অনুপস্থিতি মেয়েটির পড়াশোনা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। দুই পক্ষের কথা শোনার পর আদালত এই পারিবারিক সংকটকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ছুটি শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়টুকু। ১০ মার্চ পর্যন্ত জামিনে থাকতে পারবেন শ্রীনিবাস। তার পরেই তাঁকে ফের আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। জগৎসিংপুর জেলা ও দায়রা আদালতকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সাময়িক মুক্তির সঙ্গে তাঁর আসল সাজার কোনও সম্পর্ক নেই।

আইনের কঠোর শাসন বজায় রেখেও আদালত যেভাবে এক ছাত্রীর পড়াশোনা আর আবেগকে গুরুত্ব দিল, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই।