আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে কড়া সাজা শোনালো আদালত। দোষী সাব্যস্ত তরুণকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিল জেলা আদালত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ওড়িশার বরাগড়ের এক আদালত ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ২১ বছরের এক তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালে নভেম্বর মাসে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল তরুণের বিরুদ্ধে।
দোষী সাব্যস্ত ওই তরুণের নাম, প্রশান্ত বাগ। নাবালিকাকে মাছ ধরতে যাওয়ার টোপ দিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল সে। এরপর সেই জায়গায় নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল। পরবর্তীতে ওই এলাকা থেকে নির্যাতিতার নগ্ন দেহ উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা। তার মাথায় গুরুতর চোট ছিল। সেদিনই নাবালিকার ঠাকুরদা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে, একবছরের মধ্যে ট্রায়াল শেষে অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বরাগড়ের পুলিশ আধিকারিক প্রহ্লাদ সাহাই জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ২০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল। বিচারপতি কিরণ কুমার প্রধান জানিয়েছেন, 'এই ঘটনার নৃশংসতায় সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।' বরাগড়ের আদালত মৃত নির্যাতিতার পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গত বছর পরপর একাধিক নাবালিকা, কিশোরী, কলেজ ছাত্রী বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট, ১৩ বছরের এক কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেটিও ওড়িশার ঘটনা। বালেশ্বর, বালাঙ্গা ও কেন্দ্রপাড়ার পর এবারের ওড়িশার বারগড় জেলা। ৩০ দিনের মাথায় একই ঘটনা, চারবার। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছিল, মামার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গ্রামের ফুটবল মাঠে অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে একাধিক জায়গায় পোড়া দাগ ছিল। দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বুরলার বীর সুরেন্দ্র সাঁই ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়।
গত কয়েক মাসেই ওড়িশার একাধিক কলেজ পড়ুয়া গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রপাড়ায় তৃতীয়বার এই ঘটনা ঘটেছে। এক কলেজ ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তিনিও গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হন। পরিবারের তরফে ওই ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মানসিক নির্যাতন ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। বারবার তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হত বলেও অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার।
এর আগে গত ১২ জুলাই ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফকির মোহন কলেজের বি.এড-এর ছাত্রী ছিলেন এক তরুণী। ওই কলেজের হেড অব দ্যা ডিপার্টমেন্ট সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পয়লা জুলাই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান তরুণী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, সাতদিনের মধ্যে তদন্ত করে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু সাতদিন পার করেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে কারও কোনও মাথা ব্যথা ছিল না। অবশেষে কলেজের মধ্যে প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তরুণী ও তাঁর বন্ধুরা।
কলেজের গেটের সামনে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। দলে ছিলেন তরুণীও। হঠাৎ সকলের মাঝখান থেকে উঠে সোজা কলেজের করিডোরে চলে যান। সেখানে গিয়েই গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখেই ছুটে আসেন সহপাঠীরা। তাঁরাও আগুন নেভাতে তোড়জোড় শুরু করেন। কয়েক মিনিট পর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দুই দিন পরেই তরুণীর মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৯ জুলাই ওড়িশার পুরী জেলার বালাঙ্গা থানার অন্তর্গত এলাকায় আরও একটি এমন ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ঘটনার দিন তিনজন বাইক আরোহী প্রথমে এক তরুণীকে অপহরণ করে। পরে তারা মেয়েটিকে ভরগবী নদীর তীরে নিয়ে যায়। বাইবর গ্রাম সংলগ্ন একটি নির্জন জায়গায় তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই তরুণীর গায়ে প্রথমে একটি দাহ্য পদার্থ ঢালে৷ এরপর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর।
