আজকাল ওয়েবডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) সারা দেশজুড়ে বড় আকারের বেশিরভাগ জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনা করে। তা সত্ত্বেও, এই সংস্থায় অনুমোদিত ৩৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে ১৫টিই খালি। লোক রয়েছে মাত্র ২৪টিতে। রাজ্যসভায় এই তথ্য দিয়েছে কেন্দ্র। ২২ জুলাই রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, এনটিএ স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক এবং আউটসোর্সড- এই তিন ধরনের কর্মীদের মাধ্যমেই তাদের কাজ পরিচালনা করে।
প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের জবাব অনুযায়ী, এনটিএ-তে বর্তমানে ৩৯টি স্থায়ী পদ রয়েছে। যার সবকটিই ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করার কথা। এর মধ্যে ২৪টি পদে কর্মী রয়েছেন এবং ১৫টি পদ শূন্য। সরকার আরও জানিয়েছে যে, সংস্থাটিকে শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত ১৬টি পদ (আটটি ডিরেক্টর বা অধিকর্তা স্তরে এবং আটটি জয়েন্ট ডিরেক্টর বা যুগ্ম অধিকর্তা স্তরে) তৈরি করা হয়েছে। এই ১৬টি পদ 'সেন্ট্রাল স্টাফিং স্কিম'-এর আওতায় পূরণ করা হবে।
বর্তমানে স্থায়ী কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন একজন ডিরেক্টর জেনারেল (মহানির্দেশক), দু'জন জয়েন্ট সেক্রেটারি (যুগ্ম সচিব), একজন ডিরেক্টর (লেভেল ১৪), সাতজন ডিরেক্টর (লেভেল ১৩), ছয়জন জয়েন্ট ডিরেক্টর, তিনজন ডেপুটি ডিরেক্টর, দু'জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এবং দু'জন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট।
স্থায়ী কর্মী ছাড়াও এনটিএ ৭৩ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন), একজন সিনিয়র অ্যাডভাইজার, তিনজন অ্যাডভাইজার, পাঁচজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ৪৪ জন কনসালট্যান্ট, একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার, একজন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ১৭ জন 'ইয়াং প্রফেশনাল'।
পাশাপাশি, সংস্থাটি ডেটা অ্যানালিস্ট, কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, লিগ্যাল অ্যাসোসিয়েট এবং হাউসকিপিং কর্মীর মতো বিভিন্ন পদে ১২৪ জন কর্মীকে আউটসোর্স বা চুক্তির ভিত্তিতে বাইরের সংস্থা থেকে নিযুক্ত করেছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে যে, পরীক্ষার ধরনের ওপর ভিত্তি করে এনটিএ প্রচুর সংখ্যক নীচুতলার কর্মীও মোতায়েন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন পর্যবেক্ষক, সিটি কো-অর্ডিনেটর, কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক এবং রাজ্য ও জেলা স্তরের সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, কেন্দ্রীয় অর্থে পরিচালিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই কর্মীদের কাজে লাগানো হয়। সংস্থাটির পরিচালিত পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকার জানিয়েছে যে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এনটিএ ২৭০টিরও বেশি পরীক্ষা আয়োজন করেছে, যেখানে ৬.৬ কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী নথিভুক্ত করেছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের এনটিএ এ পর্যন্ত ১২টি পরীক্ষা আয়োজন করেছে। এতে ৬৫ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছে। জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'নিট-ইউজি ২০২৬' পরীক্ষাটি ৩ মে ২০২৬ তারিখে ৫৬৫টি শহরের ৫,৪৩২টি কেন্দ্রে ১৩টি ভাষায় হয়েছিল। এছাড়া ২১ জুন ২০২৬ তারিখে ফের পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এনটিএ-র আর্থিক অবস্থা
এনটিএ-র গভর্নিং বডি বা পরিচালন পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত 'অ্যাক্রুয়াল-ভিত্তিক' আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটি নিম্নলিখিত তথ্য জানিয়েছে:
এনটিএ-র আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে সংস্থাটির আর্থিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এনটিএ প্রায় ৫০৪ কোটি টাকা আয় এবং প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর আয় ছিল প্রায় ৫১৫ কোটি টাকা এবং ব্যয় ছিল প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা আয় এবং ৪২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব নথিভুক্ত করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সে সময় এনটিএ প্রায় ৯০১ কোটি টাকা আয় এবং ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য জানায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির আয় আরও বেড়ে প্রায় ১,১১৭ কোটি টাকায় পৌঁছায় এবং ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১,০৪১ কোটি টাকায়।
রাজ্যসভার সদস্য ড. ভি. শিবদাসনের একটি প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি গত পাঁচ বছরে এনটিএ -র কর্মী নিয়োগ, পরীক্ষা আয়োজন, পুনঃপরীক্ষা, নথিভুক্তকরণ ফি বাবদ অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন।
সম্প্রতি ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনটিএ-কে বিলুপ্ত করার দাবিতে দায়ের করা একাধিক আবেদনের বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে।
















