আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় শুক্রবার ভোক্তাদের আশ্বস্ত করল কেন্দ্র সরকার। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে এলপিজি সরবরাহে কোনও ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক বিবৃতিতে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বাড়ার কারণে সরকার ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, চলতি মাসের ৫ মার্চ থেকে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যাতে বাড়তি চাহিদা সহজেই মেটানো যায়।
তিনি আরও বলেন, “ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে একাধিক বুকিং করার প্রয়োজন নেই। দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে।”
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে দেশের কয়েকটি শহরে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর জেরে অনেক এলাকায় গ্যাস এজেন্সির সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকেই গ্যাস বুকিং ও ডেলিভারির সময় নিয়ে জানতে এজেন্সিগুলিতে যোগাযোগ করছেন। এই পরিস্থিতিতেই সরকার পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সামনে এসেছে।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পরিবহন ও ডিস্ট্রিবিউশন চেইন স্বাভাবিক রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে আতঙ্কের কারণে যদি অনেক মানুষ একসঙ্গে বুকিং করেন, তাহলে অস্থায়ীভাবে ডেলিভারিতে চাপ পড়তে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস বুকিং করার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় গুজব বা অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তখনই সরবরাহ ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। সরকার চাইছে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে মানুষকে সচেতন করা হোক।
মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্য ও শহরে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও যদি সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়, তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট—দেশে রান্নার গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। তাই ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস ব্যবহার ও বুকিং করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। সরকার আশাবাদী যে উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার জোরদার উদ্যোগের ফলে খুব শিগগিরই বাজারে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।
