আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলার যাসরা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সদ্য বিবাহিত এক নববধূ বিয়ের মাত্র দু’দিন পরই সন্তান প্রসব করায় পুরো বিষয়টি এখন সামাজিক ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। আনন্দ আর উৎসবের যে সংসার শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন রয়েছে অবিশ্বাস, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং ভাঙনের সুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যাসরা গ্রামে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বরযাত্রীরা সানন্দে কনের বাড়িতে পৌঁছান, ফুলের মালা বদল হয়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পরদিন, অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি, বিদায়ের পর নববধূ শ্বশুরবাড়িতে আসেন।

নতুন বউকে ঘিরে শ্বশুরবাড়িতে ছিল উৎসবের আবহ। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের ভিড় জমে, দিনভর চলে ‘মুখ দেখাই’ অনুষ্ঠান। পরিবারের দাবি, ওই দিন পর্যন্ত কনের আচরণ বা শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের জন্য চা বানিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দিন শুরু করেন নববধূ। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথায় চিৎকার শুরু করেন তিনি। আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত তাঁকে কড়ছনা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়।

সেখানেই চিকিৎসকরা জানান, নববধূ গর্ভবতী এবং অবিলম্বে প্রসব করাতে হবে। বিষয়টি শুনে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা কার্যত হতবাক হয়ে যান। প্রয়োজনীয় কাগজে সম্মতি দেওয়ার পর মাত্র দু’ঘন্টার মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেন ওই নববধূ। মা ও শিশু—দু’জনেই সুস্থ আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।


এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বরপক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের আগে কনের গর্ভাবস্থার কথা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে। বরের মা সরাসরি কনের মায়ের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। তবে কনের পরিবার পাল্টা দাবি তোলে। কনের বাবা জানান, গত বছরের মে মাসেই বিয়ের কথা পাকাপাকি হয় এবং এরপর থেকেই বর-কনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। তাঁর বক্তব্য, “তারা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করত। এই সন্তানের জন্য আমার মেয়েকে একা দায়ী করা অন্যায়।”

এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন বর। তাঁর বক্তব্য, “আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে মাত্র চার মাস আগে, অক্টোবরে। এর আগে কোনও সম্পর্ক ছিল না। আমি এই বিয়ে বা এই শিশুকে মেনে নিতে পারি না।” বরের বাবাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা কনেকে ঘরে তুলবেন না। যদিও বিয়েতে খরচ হওয়া টাকা ফেরত চাননি বলে জানান তিনি, তবে বিয়ের সময় আদান-প্রদান হওয়া সমস্ত উপহার ও জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন। তা না হলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

অন্যদিকে, কনের মা অভিযোগ করেন, বরপক্ষ পণ গ্রহণ করেই এখন মেয়েকে পরিত্যাগ করছে। তিনি বলেন, “ওরা যদি আমার মেয়েকে ফিরিয়ে না নেয়, আমরা আইনের দ্বারস্থ হব। সন্তানকে আমরা মানুষ করব, কিন্তু মেয়েটা এখনও স্বামীর নামই নেয়। যদি ওকে গ্রহণ না করা হয়, মেয়েটা ভেঙে পড়বে।”


ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈঠক ডাকা হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধানসূত্র বেরোয়নি। শেষ পর্যন্ত নবজাতককে নিয়ে কনে তাঁর বাপের বাড়িতে ফিরে যান।

এই ঘটনা এখন গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে। সামাজিক লজ্জা, নারীর নিরাপত্তা, বিয়ের আগে সম্পর্ক, পণপ্রথা, সব মিলিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে এই ঘটনাকে ঘিরে। বিষয়টি আইনগত মোড় নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একথা নিশ্চিত, বিয়ের উৎসব মুহূর্তেই বদলে গেছে এক গভীর সামাজিক সংকটে।