সরকার বাধ্যতামূলক কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল (ইপিএফ) অবদানের জন্য মজুরি সীমা প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার কথা বিবেচনা করছে। বর্তমান এই সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা আরও বেশি সংখ্যক কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতায় আনতে পারে।
2
7
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধত করে দিয়ে 'দ্য ইকোনমিক টাইমস'-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে, আগামী মাসে কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল সংস্থার (ইপিএফও) কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ডের সামনে আগামী মাসের সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে এবং ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে।
3
7
কারা প্রভাবিত হবে? বর্তমানে, ইপিএফ কভারেজ শুধুমাত্র মাসিক ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়কারী কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। যেহেতু এই সীমা ২০১৪ সাল থেকে সংশোধন করা হয়নি, তাই অনেক নিম্ন ও মধ্যম দক্ষ কর্মী যাদের বেতন বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে তারা বর্তমানে বাধ্যতামূলক পিএফ কভারেজের বাইরে রয়েছেন। সীমা ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ফলে কর্মীদের একটি বৃহত্তর অংশের জন্য ইপিএফ অবদান বাধ্যতামূলক হবে।
4
7
কর্মচারীদের জন্য কী পরিবর্তন? মজুরি সীমা বাড়ানো হলে, ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে আয়কারী কর্মচারীদের মাসিক বেতন থেকে তা কাটা হবে। কারণ ইপিএফ অবদান মজুরির শতাংশ হিসাবে গণনা করা হয়। এটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বেতন কমাবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী অবসরকালীন সঞ্চয় বৃদ্ধি করবে।
5
7
নিয়োগকর্তাদের কী হবে? নিয়োগকর্তাদেরও উচ্চতর খরচের সম্মুখীন হতে হবে, কারণ তাদের কর্মচারীর ইপিএফ অবদানের সঙ্গে মিল রাখতে হবে। এটা বেতন ব্যয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শ্রম-নিবিড় খাতের জন্য।
6
7
পিএফ-সংযুক্ত সুবিধাগুলি কীভাবে পরিবর্তন হবে? প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রভিডেন্ট ফান্ড জমা, পেনশন অবদান এবং বিমা কভার-সহ সমস্ত ইপিএফও-সংযুক্ত সুবিধাগুলি সংশোধিত মজুরি সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
7
7
এখন কেন? দ্য ইকোনমিক টাইমসের মতে, জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট ইপিএফও'কে চার মাসের মধ্যে মজুরি সীমা সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়ার পর, প্রস্তাবটি দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান মজুরি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ থেকে বাদ পড়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মজুরিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও, বর্তমান ১৫,০০০ টাকার সীমা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।