আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক। তার মাঝেই উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন থেকে এক মর্মান্তিক খবর প্রকাশ্যে এসেছে। আগামী ২১ জুনের নিটের পুনঃপরীক্ষার আগে ২৩ বছর বয়সি এক তরুণী নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। মৃত তরুণীর নাম রিয়া কুমারী থাপা। তিনি ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ভারতীয় সেনার কন্যা। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্য আসে। ওই দিন দুপুরের খাবারের জন্য রিয়ার মা তাঁকে তাঁর ঘরে ডাকতে যান। কিন্তু ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তিনি রিয়ার বাবাকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা মিলে এর পর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকেই রিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁরা।
সেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। হিন্দিতে লেখা ওই নোটে লেখা ছিল, "আই লাভ ইউ, মাম্মি, পাপা। কারও কোনও দোষ নেই।"
দেরাদুনের সিনিয়র পুলিশ অফিসার অঙ্কিত কান্দারি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রিয়া সাধারণত গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন এবং সকালে একটু দেরি করে উঠতেন। পুলিশি তদন্ত ও সুইসাইড নোটের বয়ান অনুযায়ী-
১। রিয়া তাঁর নোটে বাবা-মায়ের প্রতি ভালবাসা জানায়। পাশাপাশি, নিজের মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন। নিজের যোগ্যতা বা 'অক্ষমতা'-কে এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
২। প্রথমবার নিট পরীক্ষায় সফল না হওয়ার পর থেকেই তিনি এক ধরনের মানসিক অবসাদ ও হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন। পড়াশোনায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার হতাশাই তাঁকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
তবে রিয়ার এই পরিণতি সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কারণ, তিনি বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে তিনি নিজের স্কুলে প্রথম স্থানাধিকারী ছিলেন। এমন একজন মেধাবী ছাত্রীর মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এই পরিণতি বেছে নিয়েছেন। ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ।















