আজকাল ওয়েবডেস্ক: তরুণদের আন্দোলনে দেশজুড়ে হইহই। আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কেন্দ্র। অবস্থান স্পষ্ট করেছে এভিবিপি। এবার তরুণ প্রজন্মদের সমন্ধে মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, আজকের তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী বা লক্ষ্যহীন নয়। তাদের বোঝার জন্য তিনি কোনও কিছু 'চাপিয়ে দেওয়া'র পরিবর্তে অর্থবহ 'আলোচনা'র আহ্বান জানিয়েছেন।

'বিশ্ব মাঙ্গল্য সভা'র এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত প্রজন্মগত ব্যবধানের বিষয়টি তুলে ধরেন। আরএসএস প্রদানের মতে, আজকের তরুণদের সঠিক পথপ্রদর্শনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন ছিল আনুগত্যের যুগ। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই।"

আজকের তরুণদের বিষয়ে মোহন ভাগবত কী বলেছেন?
আরএসএস প্রধান বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রশ্ন করতে বেশি আগ্রহী, তাই অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে, তিনি পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার পরিসর কমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ভাগবত বলেন, "নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে। আমাদের তাদের কাছে যুক্তি বা কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। আমাদের তাদের প্রচুর ভালবাসা দিতে হবে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।" 

ভাগবত জোর দিয়েই বলেন যে, তরুণদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজন কথোপকথনের, কোনও আদেশ বা নির্দেশ নয়। আরএসএস প্রধান  বলেন, "নতুন প্রজন্মের মধ্যে আপন করে নেওয়ার বা একাত্মবোধের অনুভূতি জাগাতে হবে। আমাদের যোগাযোগ করতে হবে। নির্দেশ নয়, আলোচনা। আদেশ নয়, ঐকমত্য।"

তবে মোহন ভাগবতের মুখে এদিন একবারের জন্যও যন্তর মন্তরের আন্দোলনের কথা উচ্চারিত হয়নি। যদিও তাঁর মন্তব্য তরুণদের বিক্ষোভকে বিবেচনা করেই বলে মনে করা হচ্ছে।

আরএসএস প্রধান এখন পর্যন্ত সিজেপি বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এই বিক্ষোভ অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ জুলাইয়ের হিংসায় (যেখানে সংসদের খুব কাছেই বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছিল) জনগণের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

শুক্রবার প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল আরএসএস প্রধানের এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিবাল টুইট করেন, "মোহন ভাগবত জি... যন্তর মন্তরের ঘটনাপ্রবাহ... গত এক মাসে আপনার নীরবতা আপনার উপদেশবাণীর চেয়েও বেশি অর্থবহ।"

সিজেপি বিক্ষোভের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী? 

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি।

তবে সরকার এই দাবিতে আমল দেয়নি। যদিও ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তারা বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল আনার ঘোষণা করেছেন।

বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন 'সিজেপি' সরকারের সঙ্গে দু-দফা আলোচনার পরেও তাদের দাবি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভাগবতের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার আরএসএস-এর প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার অভিযোগ করেন যে, দেশের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন শক্তি এই সিজেপি বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে। কুমার বলেন, "এই বিক্ষোভের পেছনে এমন সব শক্তি রয়েছে (তা দেশের ভেতরেই হোক বা বাইরের) যারা চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে উঠুক।"

এখন সবার নজর সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনার দিকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সরকার শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছিল।