আজকাল ওয়েবডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে টলে গিয়েছে দিল্লি। বাড়ছে সমর্থনও। তাতেই আতঙ্কিত মোদি সরকার? মঙ্গলবার নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন প্রদানমন্ত্রী। মোদির আবেদন, "শিশুদের উস্কানি না দিয়ে সঠিক পথ দেখান।" ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট-ইউজি)-এর সাম্প্রতিক অনিয়ম নিয়ে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের ঠিক পরের দিনই মোদি এই মন্তব্য করলেন।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর দলীয় সাংসদদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান। সংসদ লাইব্রেরি ভবনের জি.এম.সি. বালাযোগী অডিটোরিয়ামে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "ভুল পথে যাওয়া সহজ, কিন্তু সঠিক পথে ফিরে আসা অনেক কঠিন। আর আমাদেরই তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব।" প্রধানমন্ত্রীর দাবি যুবসমাজকে "বিভ্রান্ত" করা হচ্ছে।  

এই বৈঠকেই মোদির আরও দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে 'ঘোর পাপ' হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এর সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে ১৩ জন অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠায়। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে সরকার পুনরায় নিট পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২১ জুন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

রিজিজু বলেন, সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সহায়তা করবে।

দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও নিট প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ করছে সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার ছিল এই দলের ডাকে 'সংসদ অভিয়ান'। যাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লি উত্তেজনা ছড়ায়। শেষপর্যন্ত ওই দিনই সিজেপি-র এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বৈঠক হয়।

সিজেপি প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সোমবার নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন এবং তিনটি প্রধান দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হল- ১. নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যায় মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ২. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ৩. আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি।

জানা গিয়েছে, নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ কর্মসূটি বন্ধ করতে এবং রাজধানীর ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলেছেন। তবে, প্রতিনিধিদের তোলা দাবির বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস তিনি বা সরকারি তরফে দেওয়া হয়নি।

পরিবেশ ও সমাজকর্মী ওয়াংচুক জুন মাসের শেষে এই বিক্ষোভে যোগ দেন, জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য সরকারি জবাবদিহি  এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন।

২০২৬ সালের  ৩ মে নিট-ইউজি মূল পরীক্ষা হওয়ার কতা ছিল। কিন্তু ব্যাপক অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বিতর্ক দানা বাঁধে। প্রতিবাদে শুরু হয় ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ। এরপরই ওই পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২১শে জুন দেশব্যাপী ফের নিট-ইউজি পরীক্ষা হয়।