আজকাল ওয়েবডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির টানা আন্দোলন। একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা যাচ্ছেন আন্দোলনস্থলে। সমর্থন জানাতে। রাহুল থেকে প্রিয়াঙ্কা, কেজরিওয়াল থেকে অখিলেশ যাদব, যাচ্ছেন যন্তর মন্তরে, বার্তা দিচ্ছেন পাশে থাকার। মমতা ব্যানার্জি ২১ জুলাই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনিও যাবেন দিল্লিতে। পৌঁছে গিয়েছেন মহুয়া-সাগরিকারাও। সেই সময়েই সংবাদমাধ্যমে ককরোচদের আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন তৃণমূলী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি একদিকে যেমন উষ্মা প্রকাশ করেছেন আন্দোলন নিয়ে, তেমনই আবার তৃণমূল জমানার কথাও তুলেছেন, যে সময়ে তিনি নিজেও ছিলেন তৃণমূলের অংশ।

সংবাদমাধ্যমে কাকলি বলেন, 'হুলিগানিজম, নৈরাজ্য, কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তারসঙ্গেই এটাও বলতে হবে, পশ্চিমবাংলার শিক্ষা দুর্নীতি, নিয়োগ দুর্নীতি, সেখানে যাঁরা বিচার চাইতে গিয়েছেন বাচ্চা কোলে নিয়ে, বসে আছেন রাস্তায়, তাঁদের  উপরেও পুলিশ লাঠি চালিয়েছে, তাদের উপরেও রাজশক্তির আক্রমণ এসেছে। তাহলে সেই প্রশ্নটাও একসঙ্গে তুলতে হয়।'

সঙ্গেই তিনি বলেন, 'এরা কোথা থেকে জড়ো হল? পিছন থেকে কলকাঠি কে নাড়ছে, যে তারা  এত উৎশৃঙ্খল হয়ে সংসদ ভবনের উপর হামলা করার জন্য এগিয়ে এল, তদন্তের পর এটারও যতাহযথ বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।'

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে এবার আশ্বাস কেন্দ্রের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে সরকার 'যে কোনও সময়ে, যে কোনও স্থানে' আলোচনায় বসতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্দোলনকারীদের কাছে গত মঙ্গলবার থেকে এই নিয়ে সরকারি তরফে মোট চার বার আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

আন্দোলনরত পড়ুয়াদের খোলাখুলি ভাবে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, "গতকাল বিকেল থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নবীন প্রজন্মের বন্ধুদের প্রতি সরকারের বার্তা স্পষ্ট—আপনাদের সুবিধাজনক সময়ে যেকোনও বিষয়ে যে কোনও স্থানে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।" তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই আলোচনায় বসা নিয়ে কোনও 'ইগো' বা অহঙ্কার থাকা উচিত নয় কোনও তরফেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়—যেকোনও স্থানে আলোচনা হতে পারে। সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবে বলেও তিনি জানান।

 

">