আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল রাজধানী। ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিয়েছেন বিক্ষোভে।
এমনকী, সোমবার সংসদ অভিযানে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পর প্রতিবাদে সামিল হয়েছে গোটা দেশ। এমনকী, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনায় মুখ খুলেছে।
এবার, পড়ুয়াদের ওপর দিল্লি পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মুখ খুললেন মোহনবাগানের ফুটবলার সাহাল আব্দুল সামাদও। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করে সাহাল লেখেন, ‘এরা এমন কিছু তরুণ-তরুণী, যারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের কথা শোনানোর দাবি নিয়ে পথে নেমেছিল। অথচ তাদের জবাব দেওয়া হল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রজন্ম শুধুমাত্র নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে এসেছিল, তাদের ওপর লাঠি চালানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে কারও মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, তার জবাবে এভাবে বলপ্রয়োগ কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
পোস্টে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে সওয়াল করে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কোনও হুমকি নয়। সেটাকে হুমকি হিসেবে দেখলে ক্ষত আরও গভীর হয়।’ সাহাল আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে লেখেন, ‘আমি তাদের পাশে আছি। নীরবে নয়, দূর থেকেও নয়। তাদের কণ্ঠস্বরের জায়গা হওয়া উচিত আলোচনার টেবিলে, ব্যারিকেডের সামনে নয়।’
উল্লেখ্য, দু’মাস আগে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছাত্রবিক্ষোভের মুখ হয়ে উঠেছে। একদিকে রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিবাদ, অন্যদিকে সরকারের অনমনীয় মনোভাব—এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, নতি স্বীকার করবে কে?
ডিএমএলটি বা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অসন্তোষের আগুন জ্বলছে। ভারতের চিকিৎসা শিক্ষার প্রবেশদ্বার এই নিট পরীক্ষায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী সংসদ ভবনের দিকে অভিযানের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই আবহে অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "সরকার যদি কথা বলতে চায়, তবে তাদের এখানে আসতে হবে এবং আমাদের শর্ত মেনে চলতে হবে। সরকারের এই অহংকার এবার শেষ হওয়া দরকার।"
যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দরকষাকষির বল ঠেলে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের কোর্টে। সরকারি সূত্রের খবর, "আন্দোলনকারীরা আলোচনা করতে এলে আমরা প্রস্তুত।" কিন্তু সিজেপি তাদের দাবিতে অনড়।
সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, "সরকারের সঙ্গে আলোচনা কোনও নিরপেক্ষ স্থানে বা যন্তর মন্তরেই হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের যে মূল দাবি, সেখান থেকে আমরা একচুলও সরব না।"
















