আজকাল ওয়েবডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহ-র তাণ্ডবে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে এখনও পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২১ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি।

এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহ-র কারণে শ্রীলঙ্কার মানুষ যে প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, সান্ত্বনা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য আমি প্রার্থনা করছি।’

তিনি জানান, ভারতের ‘নিকটতম সামুদ্রিক প্রতিবেশী’ শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়াতে ইতিমধ্যেই জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও মানবিক সাহায্য পাঠানো হয়েছে অপারেশন সাগর বন্ধু–র অধীনে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতেও ভারত প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সাহায্য ভারতের প্রতিবেশী নীতি ও ভিশন মহাসাগরের প্রতিফলন, যা আশেপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।

এদিকে, সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের পর শ্রীলঙ্কায় চলতি উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ভারতের আইএনএস বিক্রান্ত মোতায়েন করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহ-র কারণে সৃষ্টি হওয়া প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যুদ্ধজাহাজ চেয়ে শ্রীলঙ্কা আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের কাছে।

শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৫–২৬ নভেম্বর আইএনএস বিক্রান্ত কলম্বো বন্দরে মোতায়েন করা হয়েছিল।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার শ্রীলঙ্কা সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে (জরুরি পরিষেবা ব্যতীত)।

দেশটির বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১২,৩১৩ পরিবারের মোট ৪৩,৯৯১ জন মানুষ ঘূর্ণিঝড়জনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি বিশেষ মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ–ত্রাণ (HADR) মিশন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেয়।

‘সাগর’ শব্দটি ভারতের সামুদ্রিক নীতি Security and Growth for All in the Region–এর প্রতিফলন, আর ‘বন্ধু’ অর্থ বন্ধুত্ব—যা ভারতের মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্বশীল ও সহায়ক ভূমিকা তুলে ধরে।

এই অভিযানের অধীনে ভারত নৌজাহাজ, বিমান, চিকিৎসা দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে খাদ্য, ওষুধ, উদ্ধার–সহায়তা ও লজিস্টিক সমর্থন দিয়ে বিপর্যস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ায়।