আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ আছড়ে পড়তেই শ্রীলঙ্কার উপর নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বহু এলাকা জলমগ্ন। সাধারণ মানুষের কাছে নেই খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস।

এমন কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়াল ভারত। একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ যার মূল লক্ষ্য বিশেষ উদ্যোগে শ্রীলঙ্কায় দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।

শুক্রবার রাতেই হিন্দন এয়ারবেস থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে পাঠিয়ে দেওয়া হয় দু’টি বড় পরিবহণ বিমান। যার মধ্যে ছিল একটি C-130 ও একটি IL-76।

এই দু’টি বিমান মিলিয়ে ২১ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে কলম্বোতে। সঙ্গে গিয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি এনডিআরএফ কর্মী এবং আরও আট টন বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম।

ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কার নানা ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছতে শুরু করেছে শুকনো খাবার, ওষুধ, জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় রেশন। সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার মানুষের কাছে দ্রুত সময়ে সাহায্য পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা।

ভারতের প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। অনেক জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত, এমনকী প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রীও কমে এসেছে।

তাই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকও স্পষ্ট করে দিয়েছে। ‘Neighbourhood First’ নীতির অংশ হিসেবেই এই মানবিক পদক্ষেপ।

প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চাপ কমানো এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, এই নীতি অনুযায়ী ভারত আগেও একাধিকবার শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করেছে, আর এবারের সাহায্যও সেই নীতিরই আরও এক দৃঢ় উদাহরণ।

কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছে এনডিআরএফ জওয়ানদের বলতে শোনা যায়, ‘মানুষের কষ্ট কমানোই এখন মূল লক্ষ্য। যত দ্রুত সম্ভব রিলিফ রিচ-আউট নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।’

স্থানীয় প্রশাসনও ভারতের এই তৎপরতাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতবিক্ষত শ্রীলঙ্কার জনজীবন স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

কিন্তু ভারত যে ভাবে প্রথমেই পাশে দাঁড়াল, তাতে উপকূলবর্তী দেশের বহু পরিবারের মুখে ফেরত আসছে ভরসা। সাইক্লোন দিতওয়াহ তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

রেকর্ড বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ৩০ নভেম্বর ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলে প্রথম আঘাত হানে সাইক্লোন দিত্‌ওয়ার। এরপর দ্রুত উত্তর–পশ্চিমে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বর্ষণে দ্বীপজুড়ে দেখা দেয় মারাত্মক বন্যা।

নদী–নালা উপচে পড়ায় বিশেষ করে কেলানি নদীর নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলবন্দি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৪৩,৯৯৫–এর বেশি মানুষকে সরকারি ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী; নৌকা ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে আটকে পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এরকম ভয়ঙ্কর বন্যা শ্রীলঙ্কায় আর দেখা যায়নি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও জলস্তর বিপজ্জনকভাবে উঁচুতে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শ্রীলঙ্কায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।