আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবাসিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও অবৈধ ব্যবসা চালানোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল গুরুগ্রাম পুলিশ। রবিবার শহরের অভিজাত এলাকা ডিএলএফ ফেজ-৩ বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী হাজির হয়। এর পর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একটি বহুতল আবাসিক ভবন। অভিযোগ, সেখানে একটি বেআইনি পিজি (পেয়িং গেস্ট) ছিল। সকাল থেকে চলা ডিএলএফ টাউনশিপের ফেজ ১ থেকে ৫ পর্যন্ত এই ব্যাপক উচ্ছেদ ও সিলিং অভিযান এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, রবিবার ডিএলএফ ফেজ-৩-এর অমলতাস অ্যাপার্টমেন্ট-এ চলে উচ্ছেদ অভিযান। 'স্টিল্ট+৪' নীতি অনুযায়ী আবাসনে মাত্র ৪টি পরিবারের থাকার অনুমোদন ছিল। কিন্তু সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরো আবাসনটিতে ৪৫টি ঘর এবং ৪৫টি অ্যাটাচড বাথরুম বানিয়ে বিশাল অবৈধ পিজিতে রূপান্তরিত করা হয়। প্রতি তলাতেই ছিল একাধিক ছোট ছোট ঘর। ওই ছোট ছোট ঘরেই নিয়মবহির্ভূত ভাবে অনেক লোক থাকত।
জেলা নগর পরিকল্পনাকারী এনফোর্সমেন্ট অফিসার অমিত মাধোলিয়া জানিয়েছেন, ওই আবাসনে এই অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে এলাকার জল, নিকাশি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছিল। যার ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এদিন অভিযানের শুরুতেই ওই আবাসনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সিল করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আবাসনের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দু'বছর আগে ডিএলএফ রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রবিবার এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
জানা গিয়েছে, ডিএলএফ টাউনশিপের প্রায় ৫,১০০টি সম্পত্তিতে সমীক্ষা চালায় প্রশাসন। শুধুমাত্র ফেজ-৩ এলাকাতেই ৩০০-র বেশি নিয়মবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যাঁরা আবাসনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনেননি, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে জানা গিয়েছে।
অভিযানে আবাসিক এলাকায় কোনও অনুমতি ছাড়াই চালানো একাধিক বেআইনি ক্লিনিক, জিম, বিউটি পার্লার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও গেস্ট হাউস সিল করে দেওয়া হয়েছে রবিবার। এছাড়া দু'টি আবাসনের মাঝের সরকারি জায়গা দখল করে তৈরি বাগান, গার্ড রুম, জেনারেটর এবং অস্থায়ী দোকানগুলিকেও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এনফোর্সমেন্ট টিম। তবে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে বিপাকে পড়েছেন ওই পিজিতে থাকা আবাসিকেরা। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই গুরুগ্রামের কর্পোরেট সেক্টরে কর্মরত তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আগে থেকে কোনও নোটিশ না পেয়ে আচমকাই ঘর ছাড়তে বাধ্য হন তরুণ-তরুণীরা। রাস্তার ধারেই মালপত্র নিয়ে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এক বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমরা কোথায় যাব? আমরা তো ভবঘুরে নই। আমাদের অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া উচিত ছিল।" তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী প্রোপার্টি মালিককে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি ভাড়াটেদের জানাননি।















