আজকাল ওয়েবডেস্ক:  জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। দুটি বা তার বেশি ওষুধের নির্দিষ্ট অনুপাতে তৈরি ১৬টি কম্বিনেশন ওষুধের উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ এবং বিতরণে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। সরকারের দাবি, এই ওষুধগুলির চিকিৎসাগত কার্যকারিতার পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।  


এগুলি হল এমন ওষুধ, যেখানে দুটি বা তার বেশি সক্রিয় ওষুধের উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ওষুধ তৈরি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের ওষুধ রোগীর জন্য সুবিধাজনক হলেও, সব কম্বিনেশন বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর বা নিরাপদ নয়।


স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ওষুধের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা হয়। সেই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটি বিভিন্ন কম্বিনেশন ওষুধ পরীক্ষা করে দেখে যে কয়েকটি ওষুধ চিকিৎসাগতভাবে অযৌক্তিক, পর্যাপ্ত কার্যকারিতাহীন অথবা রোগীর জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই এই ১৬টি ওষুধের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মানুষের ব্যবহারের জন্য এই ১৬টি ওষুধের উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ ও সরবরাহ অবিলম্বে সারা দেশে বন্ধ থাকবে।


নিষিদ্ধ হওয়া ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, পেশির খিঁচুনি কমানোর ওষুধ এবং ত্বকের পরিচর্যার জন্য ব্যবহৃত কিছু প্রস্তুতি।


স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং কার্যকর ওষুধই যাতে বাজারে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা, আমদানিকারক, পরিবেশক এবং বিক্রেতাদেরও অবিলম্বে আইন মেনে সংশ্লিষ্ট ওষুধ বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

&t=4s
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রোগীদের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং অপ্রয়োজনীয় বা বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত কম্বিনেশন ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে আরও যুক্তিসঙ্গত ও নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।