আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের জেইই-অ্যাডভান্সড-এর ফলাফল। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-র সেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় ঐতিহাসিক নজির গড়েছে মেয়েরা। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির জন্য এবার রেকর্ডসংখ্যক ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় ১০ হাজারের বেশি ছাত্রী আইআইটি-সহ প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার প্রায় প্রতি চারজন ছাত্রীর মধ্যে একজন সফল হয়েছেন, পাশের হারের নিরিখে যা যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর বিশ্লেষণে অনুয়ায়ী, ২০১৯ সালের পর আইআইটি প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ৫ হাজার ৩৫৬ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সেখানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ১০৭ জন। মূলত আইআইটি-তে মেয়েদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য যে অতিরিক্ত আসন (সুপারনিউমারি সিট) চালু করা হয়েছে, তার পরেই এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্যদিকে, এই সাত বছরে পরীক্ষায় বসা ছাত্রীদের সংখ্যাও প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩৩ হাজার ২৪৯ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৬২।
সোমবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০ হাজার ৫৬২ জন মেয়েদের মধ্যে ২৪.৯ শতাংশ সফল হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী র্যাঙ্ক তালিকায় স্থান দখল করে নিয়েছেন। তবে জেইই অ্যাডভান্সড-এর র্যাঙ্ক তালিকায় নাম থাকা মানেই আইআইটি-তে আসন নিশ্চিত হওয়া নয়। কারণ, দেশের ২৩টি আইআইটি-তে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাঁরা আইআইটি-তে সুযোগ পাবেন না, তাঁদেরও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এই স্কোরের ভিত্তিতে তাঁরা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি) বা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইআইটি)-র মতো দেশের অন্য শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহজেই সুযোগ পেয়ে যাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১০ হাজারের গণ্ডি পার হওয়া স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত) শিক্ষায় লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উঠে এসেছে:
১। ২০১৮ সালে আইআইটি-তে মেয়েদের উপস্থিতি ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত আসন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক শলভ জানান, "সরকারের দেওয়া ২০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পার করে মেয়েরা প্রমাণ করেছে যে তাঁরা আইআইটি শিক্ষার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনকেও নির্দেশ করে, যেখানে পরিবারগুলি এখন মেয়েদের নিজেদের পছন্দের কেরিয়ার বেছে নিতে বাধা দিচ্ছে না, বরং উৎসাহিত করছে। ২০১৮ সালে যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল মাত্র ১৩.৪৭ শতাংশ, তা আজ প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।"
২। আইআইটি বোম্বাইয়ের অধ্যাপক দীপঙ্কর চৌধুরী জানান, আইআইটিগুলি এখন প্রথাগত মেকানিক্যাল বা সিভিলের বাইরে গিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং বেসিক সায়েন্সেসের (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিত) মতো আধুনিক ও ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিষয় নিয়ে এসেছে। আগে ধারণা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই মাঠে ঘাটে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ, যা এখন বদলে গেছে। নতুন এই বিষয়গুলো ছাত্রীদের অনেক বেশি আকর্ষণ করছে।
৩। আইআইটি দিল্লির প্রাক্তন অধিকর্তা এবং বর্তমানে বিটস পিলানির উপাচার্য অধ্যাপক ভি রামগোপাল রাও বলেন, "যখন মেয়েরা দেখছে তাঁদের সিনিয়র বা সহপাঠীরা আইআইটি-তে সুযোগ পাচ্ছে, তখন তাঁদের মধ্যেও সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক মেয়ে এখন জেইই-অ্যাডভান্সড পরীক্ষা দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।"















