আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ এবং সংসদে শাসক-বিরোধী তীব্র তরজার মাঝেই এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রুখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় যুক্তদের দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি দিতে আমরা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"


তিনি আরও স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা অপরাধীদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। সম্প্রতি এক বৈঠকে এই ধরনের জালিয়াতিকে ‘ঘোর পাপ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।


দিল্লির রাজপথ থেকে সংসদ: উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া
প্রধানমন্ত্রীর এই বড় ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন নিট-ইউজি ও বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে সংসদের অন্দরমহল—সবত্রই চরম উত্তেজনা রয়েছে। একদিকে ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলির বিক্ষোভ প্রদর্শন, অন্যদিকে সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লির পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের ঘটনা আগুন আরও উসকে দিয়েছে।


বিরোধী দলনেতার আক্রমণ: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সরব হয়ে দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও অপরাধীদের সাজা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতির কারণেই মূলত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্র।


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি: বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনার আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে স্থির করেছে বিরোধী শিবির।


সংসদে ডেডলক: সরকার পক্ষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, তারা সংসদে যেকোনও গঠনমূলক আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি। কিন্তু বিরোধী দলগুলি ইস্তফার দাবিতে অনড় থেকে সংসদীয় আলোচনা স্তব্ধ করে রাখছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে শাসক দল।


পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনকে একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এর ফলে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকার অবসান ঘটবে এবং দ্রুত তদন্ত ও রায়দান সম্ভব হবে।


তবে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক পারদ যে এখনই নামছে না, তা স্পষ্ট। একদিকে রাজপথে শিক্ষার্থীদের অধিকারের দাবি এবং অন্যদিকে সংসদে বিরোধীদের লাগাতার তোপ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাঙ্গনে কতটা স্বস্তি ফেরায়, সেটাই এখন দেখার।