আজকাল ওয়েবডেস্কঃ একদিকে, দিল্লিতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্য দিকে, তার একদিন পরেই মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলা প্রশাসন কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের বাঁধ সংলগ্ন স্থান থেকে 'চিতা বিক্ষোভ' তুলে দিল। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের একটি দল দৌধন বাঁধ এলাকায় পৌঁছয়। সেখান থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সমাজকর্মী অমিত ভাটনগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশপাশি, প্রায় তিনটি বাস বোঝাই করে আন্দোলনকারীদের পান্না জেলায় ফেরত পাঠানো হয়।

 

সংবাদমাধ্যমের খবর, গত ১৭ দিন ধরে চলছিল এই 'চিতা বিক্ষোভ'। ওই আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে সমাজকর্মী ভাটনগর ১৪ দিন ধরে অনশনে বসেছিলেন। মূলত প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের কারণ ছিল ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে। পান্না জেলার 'রানঝ' ও 'মাঝগায়ে' কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের কারণে প্রায় ২,০০০ পরিবার ভিটেহারা হয়েছেন। এ জন্য পরিবারপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল পরিবারপিছু ১২.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দাবিতেই তাঁরা এই আন্দোলনের ডাক দেয়। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে বাকি অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবু প্রতিবাদীরা ৩ জুলাই থেকে নদীবাঁধ এলাকায় 'চিতা বিক্ষোভ' শুরু করেন।

 

ভাটনগরের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে ছাতারপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ জয়সওয়াল জানান, জলবায়ু ও সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। বায়রমা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে আন্দোলনকারীদের প্রাণসংশয় হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই আন্দোলনকারীদের তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া, প্রশাসনের কাছে এই বিক্ষোভের কোনও লিখিত অনুমতি ছিল না।

 

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারির পর হাসপাতালে ভর্তি ভাটনগর। তাঁর অভিযোগ, কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পের দুর্নীতির পর্দাফাঁসের আশঙ্কায় সরকার চক্রান্ত করে আন্দোলন ভেস্তে দিয়েছে। তাঁদের পাশে বিরোধীরাও এই আন্দোলনের সামিল হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের রাজনীতি অগ্নিগর্ভ।