আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন দশক আগের কথা। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন এক তরুণ ছাত্রনেতা। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে রক্তে ভেসেছিলেন, ভেঙেছিল হাড়ও। তবু পিছু হটেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সেই আপসহীন লড়াই সেদিন ওড়িশার রাজনীতিতে ওই তরুণকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল এক নির্ভীক আন্দোলনকারী হিসেবে। সেই তরুণ ছাত্রনেতাই আজকের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে সময় আজ এক নির্মম পরিহাসের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তাঁকে— নব্বইয়ের দশকে যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে লাঠি খেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, আড়াই দশক পর দেশের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনিই আজ ঠিক একই কারণে কোটি কোটি পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু।

সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষা সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে এখন একটাই জোরালো দাবি— শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশজুড়ে চলতে থাকা এই উত্তাল আন্দোলনের আবহেই সমাজমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ১৯৯৭ সালের সেই পুরনো ঘটনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তৎকালীন এবিভিপি (ABVP) নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ওড়িশা সচিবালয় অভিযানের স্মৃতিকথা তুলে ধরে নেটিজেনরা পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন— যিনি নিজে একসময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে লড়াই করে ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন, আজ ক্ষমতার মসনদে বসে তিনি কেন এই একই ব্যধি রুখতে ব্যর্থ?

গত কয়েক বছরে দেশে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের গোটা শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। আর এই পুরো সংকটজনক পরিস্থিতির একদম কেন্দ্রে এসে পড়েছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে শামিল হওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আজ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশাসনিক ব্যর্থতার জবাবদিহি চাইছেন। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একসময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রাজনীতির প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছিল, তিন দশক পর আজ সেই একই দাবির আন্দোলনে তিনি নিজেই অভিযুক্তের প্রধান আসনে। ইতিহাস যেন এক পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন করল— যে হাত একসময় আন্দোলনের ব্যানার ধরেছিল, আজ সেই হাত থেকেই পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ।