আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত রাজ্যে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার অন্ধ, মূক ও বধির পড়ুয়ারা। ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্ররাও স্কুলের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার এক স্কুলে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, কালাহান্দির পরমানন্দপুর এলাকায় অন্ধ, মূক ও বধিরদের জন্য রেড ক্রস নামের এক বিশেষ স্কুল রয়েছে। সেই রেড ক্রস স্কুলেই অন্ধ, মূক ও বধির ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ওই স্কুলের ওয়ার্ডেন সন্ধ্যা দর্শন মহাপাত্রের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের জোরজবরদস্তি করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই স্কুলের ছাত্ররা জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানালেই আরও চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাদের। বিশেষভাবে সক্ষম ওই পড়ুয়ারা একাধিকবার এই ঘটনা ঘিরে সরব হয়েছে। নানা অঙ্গভঙ্গিতে যৌন নির্যাতনের বর্ণনাও করেছে তারা। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অন্ধ, মূক ও বধির ছাত্রীদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে অশ্লীলভাবে তাদের স্পর্শ করছেন ওই অভিযুক্ত ওয়ার্ডেন। তাদের অস্বস্তি হচ্ছে জেনেও, স্কুলের অন্ধকার ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন তিনি।
গত বছর পরপর একাধিক নাবালিকা, কিশোরী, কলেজ ছাত্রী বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট, ১৩ বছরের এক কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেটিও ওড়িশার ঘটনা। বালেশ্বর, বালাঙ্গা ও কেন্দ্রপাড়ার পর এবারের ওড়িশার বারগড় জেলা। ৩০ দিনের মাথায় একই ঘটনা, চারবার। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছিল, মামার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গ্রামের ফুটবল মাঠে অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে একাধিক জায়গায় পোড়া দাগ ছিল। দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বুরলার বীর সুরেন্দ্র সাঁই ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়।
গত কয়েক মাসেই ওড়িশার একাধিক কলেজ পড়ুয়া গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রপাড়ায় তৃতীয়বার এই ঘটনা ঘটেছে। এক কলেজ ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তিনিও গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হন। পরিবারের তরফে ওই ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মানসিক নির্যাতন ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। বারবার তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হত বলেও অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার।
এর আগে গত ১২ জুলাই ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফকির মোহন কলেজের বি.এড-এর ছাত্রী ছিলেন এক তরুণী। ওই কলেজের হেড অব দ্যা ডিপার্টমেন্ট সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পয়লা জুলাই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান তরুণী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, সাতদিনের মধ্যে তদন্ত করে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু সাতদিন পার করেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে কারও কোনও মাথা ব্যথা ছিল না। অবশেষে কলেজের মধ্যে প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তরুণী ও তাঁর বন্ধুরা।
কলেজের গেটের সামনে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। দলে ছিলেন তরুণীও। হঠাৎ সকলের মাঝখান থেকে উঠে সোজা কলেজের করিডোরে চলে যান। সেখানে গিয়েই গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখেই ছুটে আসেন সহপাঠীরা। তাঁরাও আগুন নেভাতে তোড়জোড় শুরু করেন। কয়েক মিনিট পর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দুই দিন পরেই তরুণীর মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৯ জুলাই ওড়িশার পুরী জেলার বালাঙ্গা থানার অন্তর্গত এলাকায় আরও একটি এমন ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ঘটনার দিন তিনজন বাইক আরোহী প্রথমে এক তরুণীকে অপহরণ করে। পরে তারা মেয়েটিকে ভরগবী নদীর তীরে নিয়ে যায়। বাইবর গ্রাম সংলগ্ন একটি নির্জন জায়গায় তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই তরুণীর গায়ে প্রথমে একটি দাহ্য পদার্থ ঢালে৷ এরপর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর।
