আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকট এবং মোদি সরকারের নীতিসমূহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দিল্লিতে এক যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হল দেশের প্রধান তিনটি বামপন্থী দল। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিল্লির চারু ভবনে—ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কাকতালীয়ভাবে, এই দিনেই ছিল চারু মজুমদারের ৫৪তম 'শহীদ বার্ষিকী'। বৈঠকের শুরুতেই উপস্থিত শীর্ষ বাম নেতৃবৃন্দ বিপ্লবী কমরেড চারু মজুমদারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বৈঠকে সিপিআই-এর প্রতিনিধিত্ব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজা, রামা কৃষ্ণ পান্ডা এবং ড. গিরিশ। সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরো সদস্য এম. এ. বেবি এবং অরুণ কুমার। অন্যদিকে আয়োজক দল সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, রবি রায়, সঞ্জয় শর্মা, সুচেতা দে, শ্বেতা রাজ ও প্রভাত চৌধুরী।
বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে তিন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র ও যুব সমাজের অর্জিত অভাবনীয় বিজয়কে পূর্ণ সমর্থন ও অভিনন্দন জানান। পুলিশি দমন-পীড়ন, ভয়ভীতি ও বাধা সত্ত্বেও যে বীরত্ব, কৌশল এবং ধারাবাহিক লড়াকু মনোভাব নিয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি এবং সিজেপি-র ছাত্র-যুব কর্মীরা রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। নেতৃত্বের বক্তব্য, এই আন্দোলনের প্রবল চাপের মুখে নতিস্বীকার করেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। একইসঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্র-যুব কর্মী ও নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ধরণের প্রতিহিংসামূলক মামলা ও হয়রানি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানান, পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার আমূল কার্যকর সংস্কার এবং দেশের প্রতিটি যুবকের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের অধিকার আদায়ে যন্তর-মন্তরের এই প্রতিরোধের চেতনাকে আগামী দিনে আরও জোরদার করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
দেশজুড়ে মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন, গ্রামীণ খেতমজুর এবং নারী সংগঠনগুলির মধ্যে আরও নিবিড় ও সক্রিয় সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়ে তিন দলই একমত প্রকাশ করেছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং কর্পোরেট লুটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আবহে শ্রমজীবী মানুষের জন্য অবিলম্বে অর্থনৈতিক স্বস্তির ব্যবস্থা করা এবং লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে যৌথ কর্মসূচি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়াও, দেশের সমস্ত প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী শক্তিসমূহের পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিন পার্টির শীর্ষ নেতারা।
















