আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের পড়ুয়াদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। আহত পড়ুয়াদের সংহতি জানিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ধর্না প্রদর্শন করেন। রাহুল এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গতকাল রাতেই আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বুধবার একই ভাবে সরব হলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। ছাত্র আন্দোলনকে 'গভীর উদ্বেগের বিষয়' বলে আখ্যা দিলেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পড়ুয়াদের হাতিয়ার করছে কংগ্রেস-সহ বাকি বিরোধী দলগুলি।

 

তবে ধর্মেন্দ্রর মতো সরাসরি রাহুলের নাম নেননি রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, "কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের স্বার্থে ছাত্র ও যুবসমাজকে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছেন। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়।" তাঁর আশ্বাস, মোদী সরকার পড়ুয়াদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও প্রতি কোনও অন্যায় হতে দেবে না সরকার। বিরোধীদের এই আন্দোলনকে তিনি 'কৃত্রিম উপায়ে ক্ষোভ তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা' বলেও কটাক্ষ করেন।

 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি, সরকার যুবসমাজের উদ্বেগের বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। সংসদেও এই নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। ছাত্র আন্দোলন ছেড়ে বিরোধীদের সংসদের বাদল অধিবেশনে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত না করে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

একই সুরে গতরাতে ধর্মেন্দ্র অভিযোগ করেন বিরোধীরা রাজনৈতিক হাতিয়ার করছেন ছাত্রদের আন্দোলনকে। সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি লেখেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে নিট নিয়ে সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস কেবল মাত্র খবরের শিরোনামে থাকতে এবং সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এ ধরনের অবস্থান বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মও লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা।''

 

পড়ুয়াদের ছাত্র আন্দোলন এবং বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপি-র মন্ত্রীরাও একই সুরে মন্তব্য করেছেন। ২০ জুলাই সিজেপি-র সংসদ চলো অভিযানের ফলে সংসদের প্রথম দিনের বাদল অভিযান ভেস্তে যায়। আর তারপর অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন, ছাত্রদের উচিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করা। কোনও ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব না। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে প্রতিবাদ মিছিলকেও সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। বিজেপি নেতা নীতিন নবীনও পড়ুয়াদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আঙুল তোলেন রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের অভিযানকে।

 

এ দিকে সিজেপি-র আন্দোলনের সমর্থনে এবং ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সংহতি আন্দোলনের উত্তাপ কলকাতা, মুম্বই, আমদাবাদ, বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি বিহারেও পৌঁছেছে। গতকাল মুম্বাইয়ের পর আজ বিহারের প্রতিবাদ মিছিলেও কাঁদানে গ্যাস, জলকামান চালিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করা হয়।