আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ এবং সংসদ মার্চে উত্তাল হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। এই বিক্ষোভে প্রায় ২৫০০ দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (এফআরএস) ব্যবহার করে এই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের একটি সূত্রের। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের সময় যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার তদন্তেই এই তথ্য সামনে এসেছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের জেরে নজরদারি জোরদার করতে এফআরএস মোতায়েন করার পর ২১ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে ২৫০০ জনেরও বেশি এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে যাঁদের এর আগে অপরাধমূলক কাজকর্মের প্রমাণ রয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে থাকা দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছিল। বিক্ষোভস্থলের চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বেরনোর পথগুলিতে চারটি এফআরএস ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলি দিল্লি পুলিশের ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশকর্তারা রিয়েল টাইমে এই সিস্টেমটি পর্যবেক্ষণ করছেন। যার ফলে তারা পুলিশের রেকর্ডে আগে থেকেই থাকা যে কোনও পলাতক অপরাধী বা অভ্যাসগত অপরাধীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারছেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ মিছিল চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমটি স্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত, দিল্লি পুলিশ এই ঘটনায় ১৫টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।

পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের জেরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে হাজার হাজার পড়ুয়া শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। 

২০ জুলাই আন্দোলন তীব্রতর হয়। ‘সংসদ চলো’ স্লোগান নিয়ে সংসদের দিকে অগ্রসররত সিজেপি-র বিক্ষোভকারীদের দিল্লি পুলিশ থামিয়ে দেয়। এর ফলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সমাজমাধ্যমের একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে দিল্লি পুলিশ। যদিও পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে বিক্ষোভকারীদের উপর অত্যাধিক বল প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। এর পরে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে।