আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাদল অধিবেশন শুরুর দিনই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। তবে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। কিন্তু, নিট ইউজি-র  পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় সিজেপি। ফলে, রাজধানীতে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। এসবের মধ্যেই রবিবার রাত থেকেই সরুক্ষার বহর বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ। 'ককরোচ জনতা পার্টি' -র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মোতায়ের করা হয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি পুলইসকর্মী। জাতীয় রাজধানীর অতি-সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর উপর কড়া নজরদারি চলছে। দিল্লি জেলা জুড়ে বিএনএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত 'চলো সংসদ' অভিযানের ডাক দিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই প্রস্তাবিত অভিযানটি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনেই হবে।  

নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে দিল্লি পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। ভিড়ের আকার বা শক্তি যাচাই করতে এবং তাৎক্ষণিক মোতায়েন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে আসা, চলে যাওয়া ও অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীদের সংখ্যার বিষয়ে প্রতি ঘণ্টায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপডেট দিচ্ছে।

সোমবার ভোর চারটে থেকেই রাজধানীজুড়ে পুলিশকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। নয়াদিল্লি জেলাজুড়ে ৫,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে মহিলা সদস্য-সহ সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (সিএপিএফ)-এর ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়নকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি জোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মোতায়েন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য স্পেশাল কমিশনার অফ পুলিশ, জয়েন্ট কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনারদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোনও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং প্রস্তাবিত অভিযান চলাকালীন ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার যেকোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতি-সুরক্ষিত এলাকায় যেকোনও ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজয় চক, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সেবা তীর্থ, সেলফি পয়েন্ট, ট্রান্সপোর্ট ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, ইন্ডিয়া গেট এবং এর আশেপাশের এলাকা। এসব জায়গায় কোনও বিক্ষোভ বা জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশের হিংসা-বিরোধী 'বজ্র' যান, জলকামান এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ব়্যাপিড রেসপন্স গ্রুপএবং রিজার্ভ ফোর্সকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নয়াদিল্লির সমস্ত মেট্রো স্টেশন কড়া নজরদারিতে থাকছে এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে পারে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।   

দিল্লিতে বিজেপি সদর দপ্তর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশের সব পথে পুলিশ, যানবাহনের তল্লাশি জোরদার করেছে। প্রতিটি প্রবেশকারী গাড়ি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চলছে। নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল দিল্লি এবং উত্তর দিল্লির কিছু অংশে বহু-স্তরীয় ব্যারিকেড, নাশকতা-বিরোধী তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং সার্বক্ষণ টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সংসদ অভিমুখে প্রস্তাবিত পদযাত্রার জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া বা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাসত্ত্বেও এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসি) শচীন শর্মা জানিয়েছেন যে, নয়াদিল্লি জেলাজুড়ে 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা' (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূর্বানুমতি সাপেক্ষে যন্তর মন্তরের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ। পুলিশ সতর্ক করেছে যে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' এবং অন্যান্য ধারার অধীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে, সোমবারের প্রস্তাবিত কর্মসূচির আগে সংহতি প্রকাশ করতে বিরোধী দলের নেতা, অভিনেতা এবং সমর্থকরা জড়ো হওয়ায় রবিবারও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

অনশন চলাকালীন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার দিল্লি পুলিশ সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে।  তিনিও সমর্থকদের কাছে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাটি শান্তিপূর্ণ ও সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করা সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকতে এবং পুলিশের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিজেপি নেতারা দাবি করেছেন যে, সোমবারের কর্মসূচির আগে হাজার হাজার সমর্থক ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের কেই যাতে কোনও উস্কানিতে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানান হয়েছে।