আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হলে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।
বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিষয়টি তুলে ধরে এক আইনজীবী আর্জি জানান যে, আন্দোলনকারী ছাত্ররা জনস্বার্থঘটিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছেন। তিনি পুলিশি নিগ্রহের কিছু ভিডিও ফুটেজ আদালতে পেশ করার কথা বললে প্রধান বিচারপতি তাঁকে মাঝপথেই থামিয়ে দেন। অত্যন্ত কড়া সুরে তিনি বলেন, "আমরা কোনও ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই এবং তা দেখার মতো সময়ও আমাদের নেই। দয়া করে আপনার সময় নষ্ট করবেন না, আর আদালতের সময়ও নষ্ট করবেন না।" এর একদিন আগেই দিল্লি হাইকোর্টও এই বিষয়ে জরুরি শুনানির আবেদন নাকচ করে দিয়ে মন্তব্য করেছিল যে, এ সবের মধ্যে আদালতকে যেন না টানা হয়।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে অবস্থান চালিয়ে আসছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনটির নাম মূলত তৈরি হয়েছিল খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এর আগে বেকার তরুণ-তরুণীদের সক্রিয় রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা শব্দটি ব্যবহার করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও পরে তিনি সাফাই দিয়ে জানান যে তাঁর মন্তব্য ছিল কেবল ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে। তবে ওই মন্তব্যের ওপর ভর করেই প্রথমে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে জন্ম নেয় সিজেপি, যা পরবর্তীতে দেখতে দেখতে রাজপথের বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এই ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে গত ১৮ জুলাই পুলিশ আন্দোলনস্থল থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরেই গত ২০ জুলাই এই সংগঠনের ডাকা ‘চলো সংসদ’ অভিযানে হাজার হাজার ছাত্র-যুব রাজপথে নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তুমুল সংঘর্ষ হয় এবং ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত বিচারবিভাগ থেকে কোনও জরুরি আইনি স্বস্তি পেলেন না আন্দোলনকারীরা।
















