আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, রবিবার পেশ করতে চলেছেন তাঁর নবম কেন্দ্রীয় বাজেট। এই বাজেটে আয়কর ছাড় মিলবে? সস্তা হবে সোনা? মধ্যবিত্তের কি সুরাহা হবে? গত কয়েকদিন ধরে এইসব প্রশ্ন যমেওন ঘুরছিল, তেমনই ঘুরছিল আরও একটি প্রশ্ন, এবার নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করার জন্য বেছে নেবেন কোন শাড়ি? কারণ, বছরের পর বছর ধরে, বাজেটের দিন নির্মলা সীতারমনের পোশাকের পছন্দগুলি বাজেট বক্তৃতার মতোই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাঁর পরনের শাড়ি প্রতিবার ভারতের একটি বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে এবং স্থানীয় তাঁতি, কারুশিল্প এবং বস্ত্র ঐতিহ্য উদযাপন করে।
রবিবার সকালে দেখা গেল, ঘন মেরুন শাড়ি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর গায়ে। অনেকের মত তামিলনাড়ুর হাতে বোনা কাঞ্জিভরমকেই বেছে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অনেকেই বলছেন দেখতে কাঞ্জিভরমের মতো হলেও, এই শাড়ি আসলে রেশম গাদোয়াল।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পরনে থাকা শাড়ি নিয়ে বেশকিছু তথ্য সামনে এসেছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বেগুনি ঘেঁষা মেরুন জমিনের শাড়ির উপর হালকা সোনালি, বাদামী চেক রয়েছে। যা তামিল ভাষায় 'কট্টম' নামে পরিচিত। শাড়ির পাড় কফি বাদামী রঙের। তার উপর রয়েছে সুতোর কাজ। এই প্রসঙ্গে আরও একটি দিক উঠে আসছে, সামনেই বিধানসভা ভোট তামিলনাড়ুতে। সেদিক থেকে লক্ষণীয়, এই কাঞ্জিভরম পরে কি বাজেট পেশের আগেই বার্তা, উপহারের ঝুলি পাচ্ছে তামিলনাড়ু? এবার শাড়ির সঙ্গে হলুদ রঙের সোয়েটার ব্লাউজকেই বেছে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, সঙ্গে কাঁধে ফেলেছেন আলগা চাদর।
এর আগে, গতবছর বিহারের মধুবনী শাড়ি করে, নীতীশের রাজ্যকে ভোটের আগে উপহার উপুড় করে দিয়েছিলেন নির্মলা। তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও তাই ঘটতে চলেছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর শাড়ি দেখে অনেকেই তেমনটাই মনে করছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালে নির্মলা সীতারামন একটি সোনালি পাড়ের ক্রিম রঙের শাড়ি পরেছিলেন, যাতে বিহারের মধুবনী শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছিল, যা বিখ্যাত শিল্পী দুলারি দেবী ভারতীয় লোকশিল্প এবং নারী কারুশিল্পকে তুলে ধরার জন্য উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে, অন্তর্বর্তী বাজেটে একটি বেগুনি পাড়ের অফ-হোয়াইট সিল্কের শাড়ি পরেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, যা কমনীয়তা ও ভারসাম্যের প্রতীক ছিল, অন্যদিকে বাজেট উপস্থাপনায় কাঁথা এমব্রয়ডারি করা একটি নীল হ্যান্ডলুম তসর সিল্কের শাড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের বাজেটে নির্মলা সীতারমন একটি সিঁদুর লাল বেনারসী সিল্কের শাড়ি পরেছিলেন, শাড়ির পাড়ে কালো ও সোনালি মন্দিরের নকশা ছিল। যা সাহস, প্রতিশ্রুতি এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। ২০২২ সালে, ওড়িশার মরচে রঙের বোমকাই পড়েছিলেন তিনি। শাড়িটি গ্রামীণ কারুশিল্পকে প্রদর্শন করার পাশাপাশি পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্বীকৃতি এনে দিয়েছিল। ২০২১ সালের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পড়েছিলেন, তেলেঙ্গানার একটি লাল ও অফ-হোয়াইট পোচাম্পল্লি ইক্কত সিল্কের শাড়ি, যা স্থানীয় বয়ন ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সরকারের "ভোকাল ফর লোকাল" উদ্যোগকে তুলে ধরেছিল।
২০২০ সালে, তাঁর দ্বিতীয় বাজেট পেশের সময়ে নির্মলা সীতারমন নীল পাড়ের হলুদ-সোনালি সিল্কের শাড়ি বেছে নিয়েছিল, কারণ তা আশা, সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতীক ছিল বলে মনে করা হয়। নির্মলার বিশ্বাস, সেবার থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য একাধিক নীতদি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছিল। ২০১৯ সালে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন একটি সোনালি পাড়ের গোলাপি মঙ্গলগিরি সুতির শাড়ি পরেছিলেন, যা অন্ধ্রপ্রদেশের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছিল।
এদিন বাজেট পেশের আগে, নির্মলা সীতারমন সাক্ষাৎ করেন দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাওয়ান।
