আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিংসাত্মক হয়ে উঠল শনিবারের বিহার বনধ। নিট প্রশ্ন ফাঁস ও এর প্রতিবাদে বিহারে বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের রাজধানী পাটনায় পুলিশের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়, চলে পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী পদক্ষেপ করে। 

এদিনের বিক্ষোভ চলাকালীন আটক ব্যক্তিদের অন্যতম আরজেডি নেতা তেজ প্রতাপ যাদব। স্পর্শকাতর  জেলাগুলোতে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাটনার গান্ধী ময়দান-সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফ্ল্যাগ মার্চও করা হয়।

শনিবার পাটনা, সিওয়ান, জাহানাবাদ, শেখপুরা এবং রোহতাস জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং পাটনায় বেসরকারি স্কুলগুলো বন্ধ। বনধের ডাক দেওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাজ্যের রাজধানীর অনেক অংশে জনজীবন মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল।

বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (যেমন 'অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন' এবং 'রেভোলিউশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন') বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সমস্তিপুরে বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সমস্তিপুর-পাটনা সড়ক অবরোধ করে। তারা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানায়।

সিওয়ানে 'অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন' , 'রেভোলিউশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন' এবং অন্যান্য বামপন্থী সংগঠন জেপি চকে বিক্ষোভ দেখায় এবং সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনের অভিযোগ তোলে।

প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিআই (এমএল)-এর নেতা অমরজিৎ কুশওয়াহা অভিযোগ করেন যে, দিল্লি ও পাটনা- উভয় জায়গাতেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অত্যধিক পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, "দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৬ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। বুধবার পাটনার রাস্তায়ও শিক্ষার্থীরা নেমেছিল। কিন্তু দিল্লি ও পাটনা- উভয় জায়গাতেই তাদের নৃশংস পুলিশি পদক্ষেপের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি মহিলা ও ছাত্রীদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি।"

'অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন'-র বিহার রাজ্য সভাপতি ধনঞ্জয়ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর কারণেই শিক্ষার্থীদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলাম। এই সরকার আমাদের সবাইকে জেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে। বিহারের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সাথে যেভাবে গ্রেপ্তার ও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"  

এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাটনায় নিট সংক্রান্ত বিক্ষোভের সময় হিংসার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সিপিআই (এমএল)-এর বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সৌরভ বলেন, "আমাদের লড়াই করে জিততে হবে এবং আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করেই ছাড়ব। ততদিন পর্যন্ত সারা দেশের তরুণরা তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবে।"

পাটনায় নিট-সংক্রান্ত বিক্ষোভের সময় হিংসা, সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বনধের ডাক দেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ নানা অভিযোগ এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের জেরে সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।