আজকাল ওয়েবডেস্কঃ গত চারদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষার ফল। কিন্তু তারপর থেকেই নিট-এর প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরগরম দিল্লি। যেখানে বাকিরা জাতীয় স্তরের পরীক্ষার স্বচ্ছতার দাবিতে সরব, সেখানে আজই নিট-এ দ্বিতীয় স্থানাধিকারী পানশুল বানসাল জানান, অযথা বিক্ষোভে সময় নষ্ট না করে সেই সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় করা উচিত। ঠিক তারপরেই প্রকাশ্যে এসেছে প্রথম স্থানাধীকারি আরিয়ান গুপ্তার বক্তব্য। ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে পড়ুয়াদের প্রতিবাদকে যুক্তিসঙ্গত বলেও দাবি জানিয়েছেন।
চলতি বছরের পুনঃপরীক্ষায় ৭২০-তে ৭১৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আরিয়ান। এ দিন তিনি সংবাদমাধ্যমকে পরীক্ষা বাতিল এবং আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, "পড়ুয়াদের অসন্তোষ যুক্তিসঙ্গত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকলের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে।"
আরিয়ান আরও বলেন, " পড়ুয়াদের সঙ্গে অন্যায় তো হয়েছেই। তবে প্রতিবাদ ও অসন্তোষ প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। আমরা কেবল আশা করতে পারি যে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। যে কোনও ব্যবস্থাতেই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকে, আশা করি দ্রুত এমন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় বা কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।"
এদিন সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, প্রথম দফার নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছিল তাঁর। ভেঙে পড়েছিলেন মানসিক ভাবে। অতি কষ্টে ফের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করে এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন তিনি। তিনি বলেন, "প্রথম যখন শুনি পরীক্ষা বাতিল হয়ে গিয়েছে, আমি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। অনেক কেঁদেওছিলাম। পুরো বিষয়টাই আমার জন্য খুব বেদনাদায়ক ছিল।"
তাঁর সংযোজন , "ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অন্যায়। কিন্তু শুধু আমার সঙ্গে ঘটেনি। প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এবং ফের পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। ঠিক সেই সময়ই আমি বুঝতে পারি যে, আমি আরও একবার সুযোগ পেয়েছি। পরের দিন থেকেই আমি ফের নতুন করে পড়াশোনা শুরু করি এবং প্রতিদিন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।"
তবে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে তাঁর পরিবার এবং শিক্ষকদের অবদানের কথাও আরিয়ান উল্লেখ করেন। জানান, এই কঠিন সময়ে বড়দের ধারাবাহিক সমর্থন না থাকলে এই ফলাফল সম্ভব হত না।
















