আজকাল ওয়েবডেস্ক: "সংঘাতের চেয়ে আলোচনাই যেকোনো সমস্যা সমাধানের সর্বশ্রেষ্ঠ পথ।" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেওয়া এক চিঠিতে এই বার্তা দিলেন প্রবীণ সমাজসেবী আন্না হাজারে। সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানান, গায়ের জোরে দমিয়ে না রেখে সরকারের উচিত ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দেশের মানুষের উদ্বেগ মেটানো। পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনের প্রতি সরকারের মনোভাবকে "অগণতান্ত্রিক" আখ্যা দিয়ে প্রবীণ এই সমাজসেবী মনে করিয়ে দেন, জনগণের আস্থা বজায় রাখাই এক দায়িত্বশীল সরকারের সবচেয়ে বড় কর্তব্য।

 

জন্তর মন্তরের বর্তমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে আন্না হাজারে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, যখনই কোনও প্রশাসনিক অনিয়ম বা গাফিলতি প্রকাশ্যে আসে, তখন তার সমস্ত দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় নিচুতলার ছোট ছোট আধিকারিকদের কাঁধে, আর কোনও ভালো কাজ হলে সমস্ত কৃতিত্ব নেয় সরকার। এই সংস্কৃতিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কাছে চূড়ান্ত জবাবদিহিতা সরকারের শীর্ষস্তরকেই নিতে হবে। তাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের যে দাবি আন্দোলনকারীরা তুলেছেন, তাকে সমর্থন জানিয়ে আন্না বলেন, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগই প্রশাসনে প্রকৃত দায়বদ্ধতা স্থির করবে এবং বাকি মন্ত্রীদের কাছেও এক কড়া বার্তা পৌঁছে দেবে। ছাত্রদের সমর্থনে মহারাষ্ট্রে আজ থেকেই মৌন অবস্থানে বসার কথাও জানান আন্না।

 

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিয়ে যুবসমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে নিছক আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখার জন্য কেন্দ্রকে সতর্ক করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, ২০২৪ সালেও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও চরম অনিয়ম হয়েছিল এবং এ বছরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। চরম হতাশায় ভুগে অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গত ২৫ দিন ধরে তরুণরা শান্তিপূরণভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকার কেন এতদিন ধরে কোনও আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রবীণ এই গান্ধীবাদী নেতা।

 

চিঠিতে সরকার ও আন্দোলনকারীদের সম্পর্ক নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন আন্না। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের গলার আওয়াজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে, কারণ তাঁরাও এই দেশেরই নাগরিক। ধৈর্য ধরে তাঁদের কথা শোনা, আস্থার পরিবেশ তৈরি করা এবং ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করাই হলো গণতন্ত্রের আসল মাপকাঠি। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ এবং ভারতীয় সংবিধানের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারকে তরুণদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সংযমী ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ১৫ বছর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে জমে ওঠা আজকের এই আন্দোলন বহু মানুষকে আন্না হাজারের সেই ঐতিহাসিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে।