আজকাল ওয়েবডেস্ক: নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা হবে বাধ্যতামূলক ‘কোয়ালিফাইং’ বা যোগ্যতা-নির্ধারক বিষয়। তবে তৃতীয় ভাষার জন্য কোনও বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না শিক্ষার্তীদের। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে পাশ করলেই হবে। 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০'- বাস্তবায়ণের পথে এই মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই।
সিবিএসই জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের মাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষার পাশ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।
‘তিন-ভাষা সূত্র’-এর অধীনে শিক্ষার্থীদের দু'টি ভারতীয় ভাষা এবং একটি বিদেশি ভাষা পড়তে হবে।
এই সংশোধিত নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে এবং ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যারা ইতিমধ্যেই দশম শ্রেণিতে পড়ছে, তাদের নতুন নিয়মের অধীনে তৃতীয় ভাষা পড়তে বা তাতে উত্তীর্ণ হতে হবে না।
তৃতীয় ভাষার স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়ন এখন বাধ্যতামূলক
১০ জুলাই জারি করা সিবিএসই-র একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে ওঠা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার পাশ সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য হতে হলে ‘আর-৩’ হিসেবে চিহ্নিত তৃতীয় ভাষার স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে হবে। যদিও তৃতীয় ভাষাটি দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না, তবুও বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সফল হওয়াকে একটি বাধ্যতামূলক শর্ত করা হয়েছে।
মূল্যায়নে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড একটি পদ্ধতিও নির্ধারণ করেছে। যদি কোনও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে না পারে, তবে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার আগেই স্কুলকে পুনরায় মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে। যারা তৃতীয় ভাষার মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদেরও দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। তবে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে তাদের নবম শ্রেণির সেই বকেয়া মূল্যায়নটি সম্পন্ন করতে হবে।
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষার শর্তের কারণে কোনও শিক্ষার্থীকে নবম শ্রেণিতে আটকে রাখা হবে না। তবে দশম শ্রেণির উত্তীর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট পাওয়ার আগে তাদের অবশ্যই এই মূল্যায়নটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
১০ জুলাই প্রকাশিত সিবিএসই-এর একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষার সনদ পাওয়ার জন্য তৃতীয় ভাষা (যা 'আর৩' হিসেবে চিহ্নিত) সংক্রান্ত স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে হবে।
দশম শ্রেণিতে থাকাকালীন কোনো শিক্ষার্থী যদি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়, তবে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই স্কুলগুলোকে তাদের জন্য পুনরায় মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও বোর্ড পরীক্ষায় এই বিষয়ের ওপর কোনও পরীক্ষা নেওয়া হবে না, তবুও দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সফল হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটিতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নীতিটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী তৃতীয় ভাষার স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তারাও ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারবে। তবে, দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাদের নবম শ্রেণির সেই অকৃতকার্য হওয়া তৃতীয় ভাষার মূল্যায়নটি সম্পন্ন করতে হবে।
এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে আটকে থাকবে না ঠিকই, কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই তাদের ভাষাগত আবশ্যিকতা পূরণ করতে হবে।
সংশোধিত নীতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সামনে কী কী বিকল্প রয়েছে?
সংশোধিত 'তিন-ভাষা' কাঠামো অনুযায়ী, নবম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থী তিনটি ভাষা পড়বে, যার মধ্যে অন্তত দু'টি ভাষা অবশ্যই 'ভারতীয় ভাষা' হতে হবে।
যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই দু'টি ভারতীয় ভাষা (যেমন- হিন্দি ও তামিল) পড়ছে, তারা তাদের তৃতীয় ভাষা (আর-৩) হিসেবে অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা অথবা ইংরেজি বা ফরাসি-র মতো কোনও অ-ভারতীয় ভাষা বেছে নিতে পারবে।
যারা একটি ভারতীয় ভাষা এবং একটি অ-ভারতীয় ভাষা পড়ছে, তাদের তৃতীয় ভাষা হিসেবে অন্য একটি ভারতীয় ভাষা বেছে নিতে হবে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন ছাড় হিসেবে, যারা ইতিমধ্যেই দু'টি অ-ভারতীয় ভাষা পড়ছে তাদের সেই ভাষাগুলো চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তাদের তৃতীয় ভাষা হিসেবে একটি ভারতীয় ভাষা যুক্ত করতে হবে।
সিবিএসই গত ২৯ জুনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ চালুর ঘোষণার পর এই সর্বশেষ নির্দেশিকাটি জারি করা হয়েছে।]
















