আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিক ও তাঁর বন্ধুর যৌন লালসার শিকার এক তরুণী। এক সপ্তাহ পর থানায় পৌঁছে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার বর্ণনা করলেন নির্যাতিতা। দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। যে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ১৯ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মাদক খাইয়ে তরুণীকে অচৈতন্য করা হয়েছিল। তারপরেই যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণী।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তরুণী বেঙ্গালুরুর এক কলেজের ছাত্রী। আম্রুথাহাল্লি থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছেন তিনি। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এক পার্টিতে তাঁদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখানে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে, ধর্ষণ করেন দু'জনে।
তরুণী জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা দিক্সন, আরেকজন বেঙ্গালুরুর এক কলেজ পড়ুয়া নিখিল। ইনস্টাগ্রামে দিক্সনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর। ক্রমেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত কয়েক মাস ধরে তরুণী ও দিক্সন সম্পর্কে ছিলেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক বিলাসবহুল ভিলাতে দিক্সন তাঁকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সেদিন নিখিলকেও নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাত পর্যন্ত তিনজনে মিলে হুল্লোড়ে মেতেছিলেন। গভীর রাতে তরুণীকেও জোর করে মদ্যপান করান তাঁরা। এরপর দু'জনে মিলে গণধর্ষণ করেন। যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন তাঁরা। সেই ভিডিওটি ফাঁস করার হুমকি দিতেন। ব্ল্যাকমেল করে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত বছর বেঙ্গালুরুতে গণধর্ষণের শিকার হন বাংলার এক তরুণী। গণধর্ষণের পরেও শান্তি হয়নি। এরপর ওই তরুণীর বাড়ি থেকে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। তিনজনকে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ। আরও দু'জনের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর গঙ্গোন্দাহাল্লিতে। বাংলার এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে। গণধর্ষণের পর তরুণীর বাড়ির সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ১৫ মিনিট থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণধর্ষণ ও চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল। ওই বাড়িতে ছ'জন বাসিন্দা ছিলেন। রাতে ওই পাঁচ যুবক দরজা ধাক্কাধাক্কি করে, তা খোলার জন্য হুমকি দেয়। এরপর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ নির্যাতিতার বড় ছেলে পুলিশে ফোন করে অভিযোগ জানায়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ আধিকারিক সিকে বাবা জানিয়েছেন, গণধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ি থেকে দু'টি দামি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যান। নির্যাতিতা তরুণী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। এই এলাকায় তিনি আরও দু'জন মহিলা, দু'জন বয়স্ক ব্যক্তি ও দু'জন শিশুর সঙ্গে থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ অভিযুক্ত ওই এলাকার বাসিন্দা। নির্যাতিতা তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে নির্যাতিতার পূর্ব পরিচিত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্তিক, গ্লেন, সুযোগ নামের তিন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গণধর্ষণ ও চুরির মামলা রুজু করে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
