বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, আর তার পিছনে বড় ভূমিকা রাখছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া প্রক্রিয়া এল নিনো। কিন্তু এবার আলোচনা আরও গভীর, কারণ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে, যা বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
2
9
এল নিনো আসলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সাধারণ অবস্থায়, পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে বয়ে যাওয়া বায়ুপ্রবাহ উষ্ণ জলকে পশ্চিমে ঠেলে দেয়।
3
9
কিন্তু এল নিনোর সময় এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে উষ্ণ জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাব শুধু সমুদ্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার প্যাটার্নে বড় পরিবর্তন আনে।
4
9
‘সুপার এল নিনো’ বলতে বোঝানো হয় এমন একটি শক্তিশালী এল নিনো, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়। ইতিহাসে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের এল নিনো ঘটনাগুলিকে ‘সুপার’ হিসেবে ধরা হয়। এই সময়গুলোতে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল।
5
9
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আবার একটি সুপার এল নিনো তৈরি হয়, তবে তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। প্রথমত, বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী উষ্ণ হয়ে উঠছে, তার উপর এল নিনোর প্রভাব যোগ হলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
6
9
দ্বিতীয়ত, বৃষ্টিপাতের ধরণেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ভারতের মতো দেশে এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার ফলে খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টিও দেখা যায়, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
7
9
তৃতীয়ত, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কম বৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
8
9
তবে সবটাই যে নিশ্চিত, তা নয়। আবহাওয়া একটি জটিল ব্যবস্থা, এবং অনেকগুলি ফ্যাক্টর একসঙ্গে কাজ করে। বিজ্ঞানীরা ক্রমাগত নজর রাখছেন প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের উপর, যাতে আগাম সতর্কতা দেওয়া যায়।
9
9
সবশেষে বলা যায়, ‘সুপার এল নিনো’ শুধু একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, এটি বিশ্বের জলবায়ু ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর প্রভাব বোঝা এবং প্রস্তুতি নেওয়া এখন সময়ের দাবি, কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রা।