বন্দে ভারত এক্সপ্রেস গতি, আরাম এবং ভারতের রেল আধুনিকীকরণের অন্যতম উদাহরণ। এর নকশা এবং সেমি-হাই-স্পিড ক্ষমতার মাধ্যমে ট্রেনটি দেশজুড়ে ভ্রমণ মানচিত্রকে বদলে দিয়েছে।
2
11
কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, এই আইকনিক ট্রেনটি যখন প্রথম তৈরি করা হয়েছিল, তখন এর একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ছিল। আরও কম লোকই সেই রেল ইঞ্জিনিয়ার সম্পর্কে জানেন, যিনি এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
3
11
দেশাত্মবোধক নামটি পাওয়ার আগে বন্দে ভারত ট্রেনটি ‘ট্রেন ১৮’ নামে পরিচিত ছিল। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে পরিকল্পনা ও সম্পন্ন হওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চালুর আগে এর নাম পরিবর্তন করে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস রাখা হয়।
4
11
আমদানি করা প্রযুক্তির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল আগের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির মতো নয়, ‘ট্রেন ১৮’ কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে সম্পূর্ণভাবে ভারতেই নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি ভারতীয় রেলের জন্য একটি বড় মাইলফলক ছিল এবং দেশের ইঞ্জিনিয়ারং ক্ষমতার প্রদর্শন।
5
11
প্রকল্পটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলির মধ্যে একটি ছিল এটি সম্পন্ন করার গতি। প্রথম রেকটি রেকর্ড ১৮ মাসে তৈরি করা হয়েছিল, যে কাজ করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। ট্রেনটি চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (আইসিএফ) তৈরি করা হয়েছিল।
6
11
প্রাক্তন ভারতীয় রেল আধিকারিক সুধাংশু মণি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের স্থপতি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। চেন্নাইয়ের আইসিএফ-এর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে তিনি ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যারা একটি দেশীয় আধুনিক ট্রেনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
7
11
প্রাথমিকভাবে, ভারত বিদেশ থেকে সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল। তবে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায়, ভারতীয় রেল নিজস্ব ট্রেন সেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, যা ‘ট্রেন ১৮’-এর পথ প্রশস্ত করে।
8
11
বন্দে ভারত একটি স্ব-চালিত ট্রেন অর্থাৎ এর সামনে কোনও লোকোমোটিভের প্রয়োজন হয় না। এর শক্তি ব্যবস্থা প্রচলিত ট্রেনের তুলনায় দ্রুততর ত্বরণ এবং উন্নততর কার্যকারিতা প্রদান করে।
9
11
পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর সময় ট্রেনটি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করেছিল। যদিও রুটের ওপর নির্ভর করে এর গতি কম থাকে। এর ফলে এটি ভারতের দ্রুততম দেশীয় ট্রেনে পরিণত হয় এবং দেশের রেল পরিকাঠামোর প্রতীক হয়ে ওঠে।
10
11
পরবর্তীতে সেই ইঞ্জিনিয়ার তাঁর ‘মাই ট্রেন ১৮ স্টোরি’ বইটিতে ‘ট্রেন ১৮’ তৈরির গল্প লিপিবদ্ধ করেন। বইটি ভারতীয় রেলের অন্যতম উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রতিবন্ধকতা এবং সাফল্যগুলির বিবরণ তুলে ধরেছে।
11
11
যদিও আজ এটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নামে বহুল পরিচিত। সুধাংশু মণি প্রায়শই বলেছেন যে ‘ট্রেন ১৮’ সর্বদা বিশেষ হয়ে থাকবে, কারণ এটি ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি এবং আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক।