শরতের মেঘ কেটে গিয়ে কার্তিকের বাতাসে কালীপুজোর গন্ধ মিশতেই হাওড়ার বেলুড়ে আবার চেনা ছবি। গলির ভেতর সেই পুরোনো বাড়ির সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের লম্বা লাইন।
2
8
উৎসবের আলোয় আকাশ ভরিয়ে তুলতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আজও ছুটে আসছেন একটাই ঠিকানায়—বাংলার আতশবাজির দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নাম ‘বুড়িমা’র বাড়ি।
3
8
সময়ের সঙ্গে কত নিয়ম বদলেছে, বাজি বাজারে কত নতুন নাম এসেছে, কিন্তু কালীপুজোর আনন্দ মানেই যে বুড়িমার বাজি, সেই নস্ট্যালজিয়া আর বিশ্বাসে এতটুকুও মরচে ধরেনি।
4
8
এই সুবিশাল ব্র্যান্ডের নেপথ্যে রয়েছে দেশভাগের রক্তক্ষয়ী সময়ের এক আশ্চর্য লড়াইয়ের গল্প। ছিন্নমূল হয়ে এপারে এসে মাথা গোঁজার পর পেটের দায়ে বেলুড়ে একটি ছোট্ট দোকান খুলেছিলেন এক লড়াকু মহিলা। বছরের বাকি সময় টুকিটাকি জিনিসপত্র বিক্রি করলেও কালীপুজোর সময়ে বাজিই ছিল তাঁর সংসারের প্রধান ভরসা।
5
8
শুরুতে অন্য জায়গা থেকে বাজি কিনে এনে পাড়ায় ফেরি করতেন তিনি। কিন্তু নিজের হাতে নিখুঁত বাজি তৈরির যে জেদ আর সততা তাঁর ছিল, তা থেকেই একদিন জন্ম নেয় বাঙালির নিজস্ব প্রতিষ্ঠান—‘বুড়িমা’। গুণমানের জোরে সেই বাজি দ্রুত হাওড়া ও কলকাতার সীমানা পেরিয়ে দেশজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
6
8
আজও বুড়িমার বাড়িতে সেই ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছেন তাঁর পরিবারের বারো জন সদস্য। বংশপরম্পরায় আজ চতুর্থ প্রজন্মে এসে পৌঁছেছে এই ব্যবসা।
7
8
নতুন রকমারি বাজি হয়তো বাজারে কিছুটা কম এসেছে, কিন্তু বুড়িমার চিরন্তন ক্লাসিক বাজিগুলোর চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, বিক্রিবাটা যেন তার পুরোনো চিরচেনা রূপেই ফিরে আসছে।
8
8
রঙমশালের বাহার আর আলোর ঝলকানিতে উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে কাউন্টারে। এক মহিলার চোখের জল আর ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ থেকে তৈরি হওয়া এই ঐতিহ্য আজও দীপাবলির রাতে বাঙালির ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিচ্ছে খাঁটি আনন্দের আলো।