এক মাসে কমবে ইউরিক অ্যাসিড! মেনে চলুন ৩ নিয়ম, কমবয়সিদের মধ্যে কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ নভেম্বর ২০২৬ ২০ : ০৯
শেয়ার করুন
1
12
এক সময়ে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে কমবয়সি ভারতীয়দের মধ্যেও বাড়ছে এই সমস্যা। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের অনেকেরই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
2
12
চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এর অন্যতম কারণ। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে শুধু গাঁটে ব্যথা বা কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কাই থাকে না, প্রভাব পড়তে পারে হৃদযন্ত্রের উপরেও।
3
12
আমাদের শরীরে পিউরিন নামক একটি উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। বিভিন্ন খাবারেও পিউরিন থাকে। সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ইউরিক অ্যাসিড ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হলে অথবা কিডনি তা ঠিকমতো বের করতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া।
4
12
লাল মাংস বা রেড মিট, সামুদ্রিক খাবার, ভাজাভুজি, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার অভ্যাস ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যাও এর ঝুঁকি বাড়ায়।
5
12
সাধারণত ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব কিংবা কিডনিতে পাথর হওয়ার কথা শোনা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
6
12
বিশেষ করে যাঁদের ওজন বেশি, ডায়াবিটিস রয়েছে কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এক মাসে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেনে চলুন ৩ নিয়ম
7
12
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই নজর দিতে হবে প্রতিদিনের খাবারের দিকে। লাল মাংস, সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। পাশাপাশি চিনি মেশানো পানীয়, কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভাল।
8
12
খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন কম ফ্যাটযুক্ত দুধ, দই, ডাল, শস্যদানা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি। পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি। শরীরে জলের ঘাটতি না থাকলে কিডনির পক্ষে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেওয়া সহজ হয়। তবে কিডনির অসুখ থাকলে কতটা জল পান করবেন, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
9
12
দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার অভ্যাস ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করুন। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চার চেষ্টা করুন।
10
12
যাঁদের অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হয়, তাঁরা কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। খাবার খাওয়ার পরেও অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। সপ্তাহে ২-৩ দিন হালকা স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।
11
12
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও নজর দেওয়া জরুরি।
12
12
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু জীবনযাত্রায় বদল আনলেই প্রত্যেকের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এক মাসে স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা বা গাউট থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো খাবারদাবার পরিবর্তন কিংবা ওষুধ বন্ধ করবেন না।