বসন্তের শুরুতে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে অচেনা পাখিরা ফিরে আসে চেনা নীড়ে। অবাক করা বিষয় হল, প্রায় পঁচানব্বই শতাংশ পরিযায়ী পাখি দলবেঁধে নয়, রাতের নিঝুম আঁধারে ওড়ে সম্পূর্ণ একা।
2
8
সামনে কোনও পথপ্রদর্শক না থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে ইঞ্চি-সেন্টিমিটারের মাপে নির্ভুল ঠিকানায় পৌঁছায়, তা জীববিজ্ঞানের এক চরম রহস্য ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পাখির এই অবিশ্বাস্য দিকদর্শনের মূলে রয়েছে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।
3
8
আগে ধারণা করা হতো পাখির চঞ্চুতে থাকা চুম্বকীয় লোহার কণা কম্পাসের কাঁটার মতো কাজ করে। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ বলছে, পাখির এই ক্ষমতা স্রেফ ধাতব সংবেদন নয়।
4
8
পাখিরা পৃথিবীর মেরু নয়, বরং বিষুবরেখার সাপেক্ষে পৃথিবীর চৌম্বক বলরেখার সূক্ষ্ম কোণ বুঝতে পারে। আর এই অনুভূতির জন্য প্রয়োজন আলো ও চোখের ভেতরে ঘটা ‘র্যাডিক্যাল পেয়ার মেকানিজম’।
5
8
পাখির রেটিনায় থাকা ‘ক্রিপ্টোক্রোম-৪’ নামের বিশেষ প্রোটিনে আলোর ফোটন আঘাত হানতেই ইলেকট্রন এক অণু থেকে অন্য অণুতে স্থানান্তরিত হয়ে দুটি ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ তৈরি করে। এই মুক্তমূলকগুলোর ইলেকট্রন স্পিন এতটাই সংবেদনশীল যে, পৃথিবীর মাত্র ৫০ মাইক্রোটেসলার অতি দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্রও এদের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
6
8
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর ফলে পাখি চৌম্বক ক্ষেত্রকে স্রেফ অনুভব করে না, চোখের সামনে আলো-ছায়ার এক অদৃশ্য মানচিত্রের মতো দেখতে পায়। পরিযায়ী রবিন পাখির ক্ষেত্রে এই প্রোটিনের সংবেদনশীলতা সাধারণ মুরগির চেয়ে বহুগুণ বেশি।
7
8
গবেষকদের মতে, ল্যাবরেটরির শূন্যের নিচের অতিশীতল পরিবেশে মানুষ যে কোয়ান্টাম সেন্সর বানানোর চেষ্টা করছে, প্রকৃতি একটি উষ্ণ পাখির চোখের ভেতর লক্ষ লক্ষ বছর আগেই সেই প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে তৈরি করে রেখেছে।
8
8
তবে শহরের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও মোবাইল টাওয়ারের কৃত্রিম ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ পাখির এই অভ্যন্তরীণ কোয়ান্টাম কম্পাসকে বিভ্রান্ত করে ফেলছে। তবু রাতের আকাশে যখন একটি পাখি একা ডানা মেলে, তখন সে আসলে বাতাসের পাশাপাশি ভর করে ওড়ে তার চোখের পর্দায় খেলা করা কোয়ান্টাম কণা-পদার্থবিদ্যার ওপর।