পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাত, বিশেষ করে আমেরিকা-ইরানের উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের খরচকে বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বেড়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান ভাড়ায়। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের ছুটি পরিকল্পনা করতে গিয়ে ভারতীয় পর্যটকদের এখন বাড়তি কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।
2
8
আগেভাগে বুকিং করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে ভাড়া অনেক বেশি পড়ছে। আন্তর্জাতিক রুটে তো বটেই, দেশীয় রুটেও চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। তাই ভ্রমণের অন্তত ৬-৮ সপ্তাহ আগে টিকিট বুক করলে তুলনামূলক সস্তা পাওয়া যায়।
3
8
গন্তব্য বাছাইয়ে বুদ্ধিমত্তা দরকার। ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে দেশের মধ্যেই ভ্রমণ এখন বেশি সাশ্রয়ী। যেমন দার্জিলিং, সিকিম বা কেরলের মতো জায়গাগুলি কম খরচে সুন্দর সময় দিতে পারে। এছাড়া নেপাল বা ভুটানের মতো নিকটবর্তী দেশও তুলনামূলক সস্তা বিকল্প হতে পারে।
4
8
ফ্লেক্সিবল ট্রাভেল ডেট রাখুন। সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ফ্লাইট ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। উইকএন্ড এড়িয়ে চললে বড় সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে ভোর বা গভীর রাতের ফ্লাইট বেছে নিলেও খরচ কমে।
5
8
বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করা যেতে পারে। বড় শহরের প্রধান বিমানবন্দরের পরিবর্তে কাছাকাছি অন্য শহর থেকে ফ্লাইট ধরলে অনেক সময় ভাড়া কম পড়ে। যেমন কলকাতার পরিবর্তে ভুবনেশ্বর বা গুয়াহাটি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট খুঁজে দেখা যেতে পারে।
6
8
প্যাকেজ ডিল খতিয়ে দেখা জরুরি। অনেক ট্রাভেল সংস্থা ফ্লাইট, হোটেল ও স্থানীয় ভ্রমণ একসঙ্গে কম দামে অফার করে। এতে আলাদা আলাদা বুকিংয়ের তুলনায় খরচ কম হতে পারে।
7
8
এছাড়া ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স নেওয়াও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল বা দেরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ইনস্যুরেন্স থাকলে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা সামাল দেওয়া যায়।
8
8
সবশেষে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা করার সময় বাস্তববাদী হওয়া জরুরি। দূরের বিলাসবহুল ট্রিপের পরিবর্তে কাছাকাছি ও বাজেট-ফ্রেন্ডলি গন্তব্য বেছে নিলে চাপ কমবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানির দামের ওঠানামা ভবিষ্যতেও ভ্রমণ খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সচেতন ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্তই হতে পারে একটি সুন্দর গ্রীষ্মকালীন ছুটির চাবিকাঠি।