বৃহস্পতিবার দুপুরের সেশনে ভারতীয় শেয়ারবাজারে তীব্র বিক্রির চাপ দেখা যায়। দিনের শুরু থেকেই দুর্বল প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও মধ্য সেশনে তা আরও গভীর হয়। দেশের দুই প্রধান সূচক—নিফটি ৫০ ও সেনসেক্স—উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।
2
10
নিফটি ৫০ সূচক দিনের ২৬,০০০-এর গুরুত্বপূর্ণ মানের নিচে নেমে ২৫,৮৮৪-এ পৌঁছে যায়। অর্থাৎ ২০০ পয়েন্টের বেশি পতন। অপরদিকে, বিএসই সেনসেক্স সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়তে পড়তে ৮৪,২৩০-এ নেমে যায়।
3
10
ফলে একদিনে ৬০০ পয়েন্টের বেশি ক্ষতি নথিভুক্ত করে। ব্যাঙ্কিং স্টকগুলিও চাপের মুখে পড়ে। ব্যাঙ্ক নিফটি ০.৫০%-এর বেশি নেমে ৫৯,৫৬৪-এর দিন-নিম্ন ছুঁয়ে ফেলে।
4
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বাজার পতনের পেছনে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিত অনিশ্চয়তা কাজ করেছে। তাঁরা মূলত পাঁচটি কারণে এই পতন ব্যাখ্যা করছেন।
5
10
গত কয়েক সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থ তোলার প্রবণতা জোরদার করেছেন। মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড বৃদ্ধি ও ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে বাজার থেকে মূলধন বের করে নিচ্ছেন সকলেই।
6
10
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের আলোচনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য-সম্পর্কিত স্টকগুলিতে চাপ দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় অর্থনীতি রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও প্রতিরক্ষা খাতে যুক্ত হওয়ায় অনেকে ঝুঁকি বুঝে শেয়ার বিক্রি করছেন।
7
10
ধাতু ও এনার্জি সহ বেশ কিছু পণ্যের দামে সাম্প্রতিক দুর্বলতা কর্পোরেট আয় সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত ধাতু ও জ্বালানি কোম্পানির স্টকগুলিতে চাপ দেখা গেছে, যা নিফটি ও সেনসেক্সকে আরও নিচে টেনে এনেছে।
8
10
ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে ঝুঁকির পরিমান বাড়িয়েছে। অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকে এবং ইক্যুইটি থেকে সরে আসে।
9
10
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারে—এই সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় রপ্তানি-নির্ভর কোম্পানিগুলি এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বাজারে আশঙ্কা বাড়ছে।
10
10
সামগ্রিকভাবে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী থাকলেও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি ও নীতিগত অনিশ্চয়তা বাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা চলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল্যসুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।