২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬, ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশজুড়ে উদযাপন চলছে। ১৯৫০ সালের এই দিনেই সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল বিষয় হল "বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর" পূর্তি, যা জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতার জন্য করা আত্মত্যাগকে প্রতিফলিত করে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই বছর দিল্লির প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত।
2
6
প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস: ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল এবং ভারত সরকার আইন (১৯৩৫)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। প্রজাতন্ত্র দিবস সেই দিনটিকে স্মরণ করেই উদয়াপিত হয়। কেন ২৬ জানুয়ারিই সংবিধান গৃহীত হয়েছিল? কার, ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ঘোষিত পূর্ণ স্বরাজের ডাক দেয়। সেই দিনকে সম্মান জানানোর জন্যই ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনন ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল।
3
6
প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য: এই দিনটি ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক শাসনকে উদযাপন করে, যা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও অটুটভাবে তুলে ধরে। এই শুভ দিনটি ন্যায়বিচার, সমতা এবং স্বাধীনতার নীতিগুলিকেও শক্তিশালী করে। এই দিনে, ভারতীয়রা ড. বি আর আম্বেদকর এবং অন্যান্য নেতাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানায়।
4
6
প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন: এই দিনটি নতুন দিল্লির কর্তব্য পথে একটি জমকালো কুচকাওয়াজের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। প্রদর্শিত হয় সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। কুচকাওয়াজের পর বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য, সঙ্গীত এবং ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। পদ্ম পুরস্কার এবং বীরত্ব পুরস্কারও প্রদান করা হয়।
5
6
বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর: এই বছর, কর্তব্য পথের উদযাপন হবে জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দেমাতরম'-এর ১৫০ বছর। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারতীয়দের কাছে এই গানই দেশপ্রেম ও প্রতিরোধের প্রধান স্লোগান হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে 'বন্দেমাতরম' ভারতের জাতীয় স্তোত্র। প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিশ্রণ।
6
6
ভারত পর্ব: সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পর্যটন মন্ত্রক চলতি বছরে ২৬-৩১ জানুয়ারি, পর্যন্ত দিল্লির লালকেল্লায় 'ভারত পর্ব' আয়োজন করছে। এতে প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো, আঞ্চলিক খাবারের প্রদর্শন ও বিক্রয়, হস্তশিল্প ও তাঁত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের স্টল এবং একটি নাগরিক অংশগ্রহণ অঞ্চল থাকবে। 'ভারত পর্ব'-এর অংশ হিসেবে লালকেল্লায় প্রদর্শিত ট্যাবলোগুলো হল- চণ্ডীগড়, লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ, বিহার, দিল্লি, গোয়া, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, ত্রিপুরা, উত্তরাখণ্ড এবং ডিআরডিও-র।