ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইজরায়েলি সেলিব্রিটি শেফ রীনা পুষ্করণা কেবল রান্নাঘরের তারকা নন, তিনি দুই দেশের কূটনৈতিক উষ্ণতার এক অনন্য প্রতীক। দিল্লিতে জন্ম, পরবর্তীতে ইজরায়েলে পাড়ি—এই যাত্রাপথেই গড়ে ওঠে তাঁর পরিচয়: ভারতীয় স্বাদের দূত এবং ইজরায়েলের আতিথেয়তার মুখ।
2
8
বহু রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক অতিথির জন্য রান্না করে তিনি অর্জন করেছেন বিশেষ খ্যাতি; বিশেষত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য তাঁর প্রস্তুত করা ভোজসভার মেনু আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছে।
3
8
রীনার সাফল্যের মূলে রয়েছে প্রামাণ্য ভারতীয় রন্ধনশৈলীর সঙ্গে আধুনিক উপস্থাপনার মেলবন্ধন। তেল আবিবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রেস্তোরাঁ বহু বছর ধরে ভারতীয় খাবারের অন্যতম জনপ্রিয় ঠিকানা। এখানেই তিনি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী পদ—তন্দুরি, কারি, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নিরামিষ থালি—ইজরায়েলি অতিথিদের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরেন। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে ভারতীয় মসলার ভারসাম্য রক্ষা তাঁর বিশেষ দক্ষতা; ফলে স্বাদে থাকে দেশীয় আবহ, আর পরিবেশনে আন্তর্জাতিক মান।
4
8
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। সেই সফরে মোদীর জন্য বিশেষ ভারতীয় মেনু পরিকল্পনা ও প্রস্তুত করেন রীনা পুষ্করনা। নিরামিষ ও জৈন বিকল্পসহ সূক্ষ্মভাবে সাজানো ওই ভোজ ছিল কূটনৈতিক প্রটোকল ও ব্যক্তিগত পছন্দ—দুইয়েরই নিখুঁত সমন্বয়।
5
8
পরবর্তীতে নেতানিয়াহুর ভারত সফরেও ভারতীয় স্বাদের বিশেষ আয়োজন নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘কুলিনারি অ্যাম্বাসাডর’ বলা হয়—কারণ তাঁর রান্না কেবল খাবার নয়, সংস্কৃতিরও বিনিময় ঘটায়।
6
8
রীনার ব্যক্তিগত জীবনও ভারত–ইজরায়েল বন্ধনের গল্প বলে। ইজরায়েলি সমাজে ভারতীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তিনি নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগে যুক্ত। খাদ্য-উৎসব, কুকিং ডেমো, টেলিভিশন উপস্থিতি—সব ক্ষেত্রেই তাঁর লক্ষ্য ভারতীয় রান্নাকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠা করা। অনেকেই মজা করে বলেন, মোদী ও নেতানিয়াহুর উষ্ণ সম্পর্কের ‘কিউপিড’ নাকি রীনা—কারণ দুই নেতার বৈঠকের আড্ডায় তাঁর রান্নাই বরফ গলিয়েছে!
7
8
তাঁর যাত্রাপথ সহজ ছিল না। নতুন দেশে ব্যবসা দাঁড় করানো, স্বাদের ভিন্নতা সামলানো, আর প্রতিযোগিতাময় রেস্তোরাঁ দুনিয়ায় টিকে থাকা—সবই ছিল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নিষ্ঠা, মানের সঙ্গে আপস না করা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। আজ তিনি কেবল একজন শেফ নন; তিনি ভারতীয় রন্ধনশৈলীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, যিনি প্রমাণ করেছেন—একটি থালিও কূটনীতির সেতু হতে পারে।
8
8
রীনার গল্প তাই অনুপ্রেরণার: প্রবাসে থেকেও শিকড়ের স্বাদ অটুট রাখা, আর সেই স্বাদকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। তাঁর রান্নাঘর থেকে উঠে আসা সুবাস যেন দুই দেশের বন্ধুত্বেরই প্রতীক—উষ্ণ, রঙিন এবং হৃদ্যতায় ভরা।